নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর: শুধু কারখানা নয়, সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ উদ্যোক্তাদের

Total Views : 13
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর এবং জ্বালানি সার্বভৌমত্বকে শিল্প কৌশলের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। গত সোমবার ঢাকায় পোশাক খাতে জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ক এক বিশেষ সম্মেলনে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

এথিকাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ (ইটিআই) বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে পোশাক কারখানার শতাধিক প্রতিনিধির পাশাপাশি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানি ও কারিগরি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইটিআই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আবিল বিন আমিন একটি ন্যায়সংগত ও সুসমন্বিত জ্বালানি রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কিংবা সবুজ জ্বালানিতে পরিবর্তনের আর্থিক চাপ শুধু কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের একার কাঁধে চাপানো উচিত নয়। এতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমান অংশীদারিত্ব ও সহায়তা প্রয়োজন।

বিকেএমইএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্জো জানান, কেবল কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে পোশাক খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, নির্ভরযোগ্য গ্রিড বিদ্যুৎ, উপযুক্ত জমিতে বড় আকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং কার্যকর জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড মডেল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এনার্জি অপটিমাইজেশনের চেয়ারম্যান নিশাত নাহরিন হামিদ ৪৫৩টি কারখানার ওপর পরিচালিত একটি সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, এসব কারখানায় প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উচ্চ বিনিয়োগ ব্যয়, ছাদের সীমিত পরিসর, কারিগরি সহায়তার ঘাটতি এবং সহজ শর্তে সাশ্রয়ী অর্থায়ন না পাওয়ার কারণে বিশেষ করে ছোট কারখানাগুলোর পক্ষে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

লিনডেক্সের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপক কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনও একই সুরে বলেন, জ্বালানি রূপান্তরের সম্পূর্ণ দায়ভার শুধু কারখানার ওপর ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এছাড়া বিএসআইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ অভিযোগ করেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা, অস্পষ্ট মূল্য নির্ধারণ নীতি, কর জটিলতা এবং পর্যাপ্ত প্রাথমিক তহবিলের অভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

সম্মেলনের প্রথম কর্মঅধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইটিআই বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার প্রিয়ং সাবাস্তিনি এবং ক্লিন–এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। ক্লিন–এর হিসাব অনুযায়ী, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা গেলে বছরে প্রায় ৫ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। অন্যদিকে, হা–মীম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার আশিস কুমার বসাক জানান, তাদের কারখানায় সোলার পাওয়ার ব্যবহারের ফলে মিশ্র বা ব্লেন্ডেড বিদ্যুৎ ব্যয় প্রতি ইউনিটে ১ থেকে ১.২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে এবং বিনিয়োগের অর্থ তুলনামূলকভাবে সাড়ে চার থেকে ছয় বছরের মধ্যে উঠে আসছে।

সমাপনী বক্তব্যে ইটিআই বাংলাদেশের প্রোগ্রামস ডিরেক্টর মুনির উদ্দিন শামীম সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতার নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের জীবনযাত্রা, তাদের আয় এবং পরিবারের ওপর গিয়ে পড়ে। তাই সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটিকে কেবল বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়, বরং সামাজিকভাবেও ন্যায়সংগত হতে হবে।

See More

Latest Photos