ইরানের পাঁচ তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা, জবাবে জর্ডানের ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

Total Views : 7
Zoom In Zoom Out Read Later Print

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তেহরানের তরফ থেকে দুবার হামলার চেষ্টার পাল্টা জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে একটি ট্যাঙ্কার ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওমান উপসাগরে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত চারটি এবং ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিকটবর্তী আরেকটি ট্যাঙ্কার এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ট্যাঙ্কারগুলো আইআরজিসি ও তাদের মিত্রদের অর্থায়ন জোগানোর একটি গোপনীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।

এই মার্কিন হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় মোট ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করেছিল, যার মধ্যে ১৮টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয় এবং বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পতিত হয়।

অন্যদিকে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, আটটি তেল ট্যাঙ্কার এবং নিয়মবহির্ভূত ১০টি জলযানে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হওয়ায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ‘এম/টি রিয়েস্কো’ নামক ট্যাঙ্কারটি শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এশিয়ার বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪১ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৫৫ ডলারে দাঁড়ায়।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা তাদের প্রধান জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন এবং জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে ইরান যখনই কোনো হামলার চেষ্টা চালাবে, তাদের এভাবেই তেল ট্যাঙ্কার হারিয়ে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন ড্রোন বা সাবমেরিন আটকের দাবি করলেও, সেন্টকম তা নাকচ করে জানায় যে ত্রুটিপূর্ণ পুরোনো ওই ড্রোনটিতে কোনো ধরনের সংবেদনশীল তথ্য বা প্রযুক্তি ছিল না।

See More

Latest Photos