আসলেই হামলা করেছে হুথি সউদী নাকি মক্কায় ভুয়া গল্প ছড়াল কি ?

Total Views : 5
Zoom In Zoom Out Read Later Print

পবিত্র নগরী মক্কায় ড্রোন হামলার কথিত চেষ্টা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অস্বীকৃতি কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সউদী আরব সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কার দিকে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইয়েমেনের বিদ্রোহী যোদ্ধারা। সউদীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মাঝপথেই সউদী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেই ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মক্কা অঞ্চলে সতর্ক বার্তাও জারি করে সউদী সরকার।

সউদী  আরবের এই দাবিকে 'ডাহা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুথি যোদ্ধারা। এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র ধর্মীয় স্থান বা স্থাপনাকে তারা অতীতেও কখনো লক্ষ্যবস্তু করেনি এবং বর্তমানেও করছে না। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির মতে, আন্তর্জাতিক জনমত বিভ্রান্ত করতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সউদী আরব এই মিথ্যা গল্প রটিয়েছে।



আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত চাপের মুখে সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চরম কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে সউদী আরব এ ইস্যুতে বেশ কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ও চাপের সম্মুখীন। ইয়েমেন সংঘাতের বিপরীতে আমেরিকা সরাসরি সামরিক সাহায্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ ছাড়া 'মক্কা জোট'-এর অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো প্রধান মুসলিম দেশগুলোও সউদী  আরবের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়নি।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে সম্পর্ক রক্ষার কারণে সউদী রাজপরিবারের ওপর বিশ্ব মুসলিমদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা-মদিনাসহ সউদী আরবে থাকা বহু অঞ্চল এবং স্থাপনা মুসলিমদের কাছে ধর্মীয় কারণে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর। এসব জায়গায় হামলার খবর কোটি কোটি মুসলিমদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এসব দাবি করে সউদী আরব মূলত সহানুভূতি এবং সহায়তা আদায়ের চেষ্টা করছে।



এদিকে, চরম চাপের মুখে যুবরাজ সালমান সম্প্রতি মিশরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে মিশরের কাছে সামরিক সহযোগিতা চাওয়াই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।



বিশ্লেষকরা বলছেন, মক্কা ও মদিনার মতো বিশ্ব মুসলিমদের স্পর্শকাতর স্থানে হামলার যেকোনো খবর বা গুজব আন্তর্জাতিকভাবে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। সউদী আরব ও ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এ ধরনের মুখোমুখি অবস্থান এবং ইয়েমেনের ড্রোন পাঠানোর দাবি নাকচ করে দেওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক রাজনীতিতে সউদী রাজপরিবারের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

See More

Latest Photos