বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি বলেছেন, ধর্ম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। তবে ধর্ম এক বিষয়, রাষ্ট্র পরিচালনা আরেক বিষয়। ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল-পিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্র চলে না ধর্ম ব্যবসা দিয়ে : গয়েশ্বর
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ধর্ম দিয়ে যদি রাষ্ট্র পরিচালিত হতো, তাহলে পাকিস্তানই টিকে থাকত। পৃথিবীর কোনো দেশে শুধু ধর্ম দিয়ে দেশ টিকে থাকে না। একটি দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ভৌগোলিক সীমানাসহ বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা নেতার হাত শক্তিশালী করলেই দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকে না। আগে জনগণের হাত শক্তিশালী করতে হবে। জনগণ যত শক্তিশালী হবে, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা তত সহজ হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও সবসময় জনগণকে মাঠে নামাতে পারেনি। কিন্তু জনগণ মাঠে নামার পর আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের শক্তিশালী করা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতকেও সে সময়ের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট ভেঙে যায়নি, বরং কৌশলগত কারণে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজস্ব অবস্থান থাকলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল।
এ সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে গয়েশ্বর বলেন, তিনি ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে তা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
গয়েশ্বর বলেন, আমরা চাই, শেখ হাসিনা দেশে আসুক, এসে বিচারের মুখোমুখি হোক। বিচারের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করুক। আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত না হন, আদালত যে রায় দেবে তা মেনে নিতে হবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, দেশের জনগণও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, রাজনীতি কোনো লাভ-লোকসানের হিসাব নয়। রাজনীতি সর্বোচ্চ ত্যাগের জায়গা। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করে রাজনীতি করা উচিত নয়। দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, তাদের আদর্শ ধারণ করতে হলে কৃত্রিমতা নয়, আন্তরিকতা প্রয়োজন। জনগণ যেন আস্থা রাখতে পারে যে, তাদের দেখানো পথেই পরবর্তী নেতৃত্ব দেশ পরিচালনা করছে।
দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। গয়েশ্বর বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থপাচারের কারণে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা সরকারের নয়, জনগণের। অথচ অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পিএনপি চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদিন ফারুক এমপি,পিএনপির মহাসচিব আহমেদুর রহমান, ইসলামী ঐক্য ফোরামের আবদুল করিমসহ দল প ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।