নেছারাবাদে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মো. ইমাম হোসেন (২৭) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে ডেকে নিয়ে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ইমাম হোসেনকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলঙ্কারকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. ইমাম হোসেন এর পিতা বাবুল হোসেন বাদী হয়ে সাকিব তাঁর বড় ভাই মো. সাইফুল,বাবা মো. ওহাব আলী এবং সাইফুলের ভায়রা ভাই মো. খোকনের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহত ইমাম হোসেন স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি।
ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ নেছারাবাদে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমাম হোসেন অভিযোগ করেন, সাকিব প্রায়ই অলঙ্কারকাঠি এম আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্কুল ছুটির সময় ঘোরাফেরা করেন এবং দলবদ্ধভাবে মেয়েদের পথরোধ করে উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি তিনি কয়েকবার নিজে দেখেছেন বলেও দাবি করেন।
ইমামের ভাষ্য, এ নিয়ে রোববার বিকেলে তিনি সাকিবকে রাস্তায় বসে একটি থাপ্পড় দিয়ে সতর্ক করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যার পর সাকিব তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে স্কুলের কাছে নিয়ে যান। সেখানে সাকিব, সাইফুল তাদের পিতা ওহাব আলী ও খোকন লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে স্বরূপকাঠি শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান শান্ত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাকিব রামদা দিয়ে তাঁর মাথার পেছনে কোপ দেন এবং চেইন দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ইমাম।
হাফিজুর রহমান শান্ত বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। ইমাম বিষয়টির প্রতিবাদ করায় তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। তিনি খবর পেয়ে ইমামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সাকিব রামদা দিয়ে ইমামের মাথার পেছনে আঘাত করেন এবং পরে চেইন দিয়ে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, শুনেছি ইমাম কোনো একটি বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল। সেই ঘটনার জের ধরে রোববার সন্ধ্যার পর সাকিব তাকে মারধর করেছে।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির হোসেন বলেন, শুনেছি, সাকিব একটি মেয়েকে ইভটিজিং করেছিল। ইমাম বিষয়টি নিয়ে তাকে সতর্ক করে একটি থাপ্পড় দিয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে সাকিব, তার বড় ভাই সাইফুল, বাবা ওহাব আলী ও স্বজন খোকন তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।