আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সারা দেশের পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রহরীর ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে দলের নেতাকর্মীরা এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন বিএনপি নেতাকর্মীরা
গত শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রিজভী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন এবং উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পূজামণ্ডপের স্থানীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাত ও রেমিট্যান্স প্রবাহের গতিশীলতা ফেরানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলীয় সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী, সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করে একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে মত দেন নেতারা।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও বিভেদ এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়। নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেন কয়েকজন নেতা। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জনস্বাস্থ্য এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন—এসব বিষয়কে সামনে রেখে দলের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।