‘তোমাকে হলো না পাওয়া’ দিয়ে আলোচনায়, কে এই জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী?

Total Views : 35
Zoom In Zoom Out Read Later Print

অভিনয়ে আসার স্বপ্ন দেখলেও পারিবারিক রক্ষণশীলতার কারণে শুরুতে সে পথে এগোনোর সাহস পাননি তরুণ অভিনেত্রী জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। অথচ কয়েক বছরের মধ্যেই ছোট চরিত্র থেকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ফয়সাল আগুনের ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’-তে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।

ওয়েব ফিল্মটিতে প্রীতি নামের প্রাণবন্ত এক কলেজছাত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চাঁদনী। বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর। কিন্তু স্থানীয় এক প্রভাবশালী গ্যাংস্টার আবিরের নজরে আসার পর বদলে যায় তার স্বাভাবিক জীবন। গল্প ও চরিত্রের কারণে দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

চাঁদনীর ভাষ্য, টেলিভিশন ও ইউটিউবে নিয়মিত নাটক প্রচারিত হলেও অনেক সময় সেগুলো দর্শকের নজরে আসে না। তুলনামূলক বড় পরিসরে নির্মিত ওয়েব ফিল্মটির গল্প ও তাঁর চরিত্র দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পেরেছে বলে তিনি মনে করেন। এতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন জোনায়েদ বোগদাদী।

অভিনয়ের শুরু যেভাবে

ঢাকায় বেড়ে ওঠা চাঁদনীর পরিবার ছিল রক্ষণশীল। স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার বিষয়টি পরিবারকে জানাতে সংকোচ বোধ করতেন তিনি। তবে স্কুল-কলেজে আবৃত্তি করতেন এবং পুরস্কারও পেয়েছেন।

ইডেন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর জীবনে পরিবর্তন আসে। ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠান, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ছবি তোলার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে প্রবেশের পথ তৈরি হয়।

চাঁদনী জানান, ক্যাম্পাসের এক সিনিয়র তাঁকে মডেলিংয়ের জন্য উপযুক্ত মনে করেছিলেন। পরে তাঁর ছবি এক পরিচালকের কাছে পৌঁছে দেন সেই আপু। সেখান থেকেই অভিনয়ের সুযোগ আসে। শুরুতে বিষয়টিকে নিছক মজা মনে করলেও একসময় সত্যিই নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি।

২০২৩ সালে শামস করিমের ‘খোঁচা’ নাটকের মাধ্যমে পর্দায় অভিষেক হয় চাঁদনীর। নাটকটিতে মোশাররফ করিম ও নিশাত প্রিয়ম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। মোশাররফ করিমের সঙ্গে ছোট একটি দৃশ্যের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবনের যাত্রা শুরু হয় তাঁর।

পরবর্তী সময়ে ‘রঙিলা পুতুল’, ‘শাদি মোবারক’ ও ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ধীরে ধীরে ছোট চরিত্র থেকে বড় পরিসরের চরিত্রে কাজ করতে শুরু করেন। তবে আরও বড় প্রকল্পে নিজেকে তুলে ধরার ইচ্ছা ছিল তাঁর। ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’ সেই সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন চাঁদনী।

মোশাররফ করিমের কাছ থেকে যা শিখেছেন

অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা চাঁদনীর কাছে বিশেষ স্মরণীয়। প্রিয় এই অভিনেতার সঙ্গে প্রথম কাজের সময় বেশ নার্ভাস ছিলেন তিনি। কিন্তু মোশাররফ করিমের আন্তরিক আচরণ ও সহযোগিতা তাঁকে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।

চাঁদনীর মতে, মোশাররফ করিম শুধু অসাধারণ অভিনেতাই নন, একজন ভালো মানুষ ও মেন্টরও। কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে অনেক কিছু শিখেছেন তিনি। এ কারণে অভিনেতাকে নিজের কাছে ‘জীবন্ত বই’ বলে মনে করেন চাঁদনী।

মোশাররফ করিমের পাশাপাশি চঞ্চল চৌধুরীর মতো পরিচিত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাও তাঁর পরিবারের মনোভাব পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। পরিবারের পছন্দের তারকাদের সঙ্গে চাঁদনীকে কাজ করতে দেখে অভিনয় পেশার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি ধীরে ধীরে কমে আসে।

অভিনয় নিয়ে এখনো শেখার আগ্রহ

অভিনয়জীবনের শুরুতে নিজের অভিনয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস থাকলেও সময়ের সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি বদলেছে। চাঁদনী মনে করেন, অভিনয়ের অনেক কিছুই এখনো শেখার বাকি। নতুন ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের মুখোমুখি হলে সেই উপলব্ধি আরও স্পষ্ট হয়।

প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করতে করতে অভিনয় এখন তাঁর পেশা হয়ে উঠেছে। সামনে একাধিক একক নাটকের পাশাপাশি ওটিটির কয়েকটি প্রকল্পেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

নিজের অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করতে চান চাঁদনী। পাশাপাশি তাঁর একটি ব্যক্তিগত স্বপ্নও রয়েছে—যেভাবে তিনি মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান, একদিন যেন কোনো তরুণ অভিনয়শিল্পী তাঁকেও নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

See More

Latest Photos