নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা: এক কোটি টাকায় লোক ভাড়া করার অভিযোগ

Total Views : 26
Zoom In Zoom Out Read Later Print

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকা ব্যয়ে লোক ভাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার জন্য ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমের অনুসারীদের পাশাপাশি মিরপুরের মামুন বাহিনীর সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা এসব কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে ১৩ জন বসে হামলার পরিকল্পনা করেন। ওই বৈঠকে শাহরিয়ার ও বিকাশও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শাহরিয়ারকে লোক ভাড়া করে হামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইব্রাহিম তাঁর অনুসারী যুবরাজকে হামলার জন্য লোক সংগ্রহের দায়িত্ব দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রকল্পের একটি ফটক ভেঙে দেওয়ার জন্য ইব্রাহিমকে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে দুটি স্থানে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে পাঁচটি পিকআপে এবং হেঁটে প্রায় ২০০ ব্যক্তি ঘটনাস্থলে যান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রকল্পের মূল ফটকে গুলি চালিয়ে হামলা শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।

জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের পাশের ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। ওই জমিতে যাতায়াতের জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীরও ওই জমিতে অংশ রয়েছে। সেখানে একটি কন্ডোমিনিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জমিতে যাতায়াতের পথ তৈরি করতে নিউগিনি প্রকল্পের মূল ফটক ভেঙে রাস্তা বের করার উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সূত্রের আরও দাবি, হামলার দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে শাহরিয়ারকে প্রস্তাবিত ভবনের একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ভবন নির্মাণের কাজে ইট ও বালু সরবরাহের সুযোগ দেওয়ার কথাও ছিল বলে জানা গেছে।

তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তার আট

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হামলাকারীদের ব্যবহৃত যানবাহনগুলো কারা ভাড়া করেছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তির ভূমিকা, অর্থ লেনদেন এবং ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

See More

Latest Photos