বিক্ষোভে আটক হওয়ার পর মুক্ত ইমরান খান, প্রেমিকা ও চাচাতো বোন

Total Views : 26
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং চাচাতো বোন জায়েন মারি খান। মুক্তির পর আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

গত শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের বাইরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান ও তাঁর দুই সঙ্গী। কর্মসূচিতে আরও অনেকে যোগ দেন।

বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইমরান ও তাঁর সঙ্গীদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে। পরে তাঁদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মুক্তির পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে লেখা ওয়াশিংটন জানান, তাঁরা নিরাপদে আছেন। পরবর্তী একটি ভিডিওতে বাড়িতে ফিরে তিনজনকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়।

তবে মুক্তির পরও ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন লেখা। তাঁর দাবি, বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সি নিতে দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ চালকদের হুমকি দিচ্ছিল।

আটকের কারণ জানতে চেয়েও উত্তর পাননি, দাবি

আটকের সময়কার অভিজ্ঞতা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তুলে ধরেন জায়েন মারি খান। তাঁর দাবি, কেন তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি। ইয়েলো গেট থানার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাঁদের কিছু জানাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জায়েনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁরা থানা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের পিছু নেন। আটকের কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা শুধু ‘দুই মিনিট’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বলেন বলে অভিযোগ জায়েনের।

অভিনেতা ইমরান খানের অভিযোগ, তাঁদের পুলিশের ভ্যানে করে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘোরানো হয়। কিন্তু কেন আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। আটকের কারণ জানতে চেয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরা চলে যাওয়ার সময় তাঁদের দিকে হাত নেড়ে ‘জয় হিন্দ’ বলতে দেখা যায় ইমরানকে।

আটকের ঘটনা নিয়ে রসিকতাও করেছেন অভিনেতা। পুলিশের ভ্যানে বসে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে তিনি লেখেন, তাঁর মনে হচ্ছে, তাঁকে গাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে।

মুম্বাই পুলিশের দাবি, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, তাঁরা ই-মেইলে অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি।

মুম্বাইয়ের পাশাপাশি দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবর পাওয়া গেছে। দিল্লিতে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের আটক, আটকের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না দেওয়া এবং কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা তাঁদের মুক্তির আনুষ্ঠানিক শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

See More

Latest Photos