খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ? মন্ত্রিসভার বৈঠক আজ

Total Views : 18
Zoom In Zoom Out Read Later Print

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি ও গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রোববার (১১ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের পৃথক অধিবেশন আহ্বানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন। একই দিনে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করেন। সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফজলুর রহমান পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার গওহর আলী খান ও আসাদ কায়সারের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

জেইউআই-এফের এক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তেজনা কমাতে তাঁরা আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার ও পিটিআইকেই নিতে হবে।

জরুরি অবস্থা নিয়ে যা বলছেন মন্ত্রীরা

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এড়ানোর সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, পিটিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতার জন্য সরকার বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছে, তবে এখন আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

সরকারের অভিযোগ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা নিয়ে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে পিটিআইয়ের অবস্থান এবং সরকারের অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

সংবিধানের যেসব অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২, ২৩৩ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের বিভিন্ন বিধান প্রয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জরুরি অবস্থা ও প্রাদেশিক প্রশাসন পরিচালনার সাংবিধানিক ব্যবস্থার বিষয় রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করার সুযোগ নেই।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রদেশের বিভিন্ন জেলার ডেপুটি কমিশনার ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

লংমার্চ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে পিটিআই। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে চলমান এ কর্মসূচি সপ্তম দিনেও প্রদেশের মধ্যেই ছিল।

পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা বা গভর্নরের শাসন জারির সম্ভাবনার বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির নেতারা এমন পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, লংমার্চ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কেন্দ্র-প্রদেশের রাজনৈতিক বিরোধকে ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনার কোনো অগ্রগতি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

See More

Latest Photos