জ্বালানিনিরাপত্তায় সৌদির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

Total Views : 27
Zoom In Zoom Out Read Later Print

লক্ষ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম বৈঠকের ফাঁকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন সফররত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানি, কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং সৌদি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি সহযোগিতায় সৌদির সঙ্গে আলোচনা

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সৌদি পক্ষ।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ ও জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কাতারের এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা এবং বর্তমান এলএনজি আমদানিব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে এলএনজি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং আমদানির উৎস ও পরিবহনপথ বহুমুখী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জ্বালানি খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তাই দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি এবং আমদানির উৎস বাড়ানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহের কথা জানিয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের ধরন কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানিনিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি ভবিষ্যৎ জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আলোচনার ভিত্তিতে কোনো চুক্তি বা প্রকল্প চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

See More

Latest Photos