নোয়াখালীতে পুকুরপাড়ে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা, আটক ২

Total Views : 26
Zoom In Zoom Out Read Later Print

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কামাল উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩০) ও সাবেক শাশুড়ি কবরী বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের দুর্গানগর গ্রাম থেকে কামাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের চরমাজীর এরশাদ কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মৃত ওহিদুর রহমান।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে কামাল উদ্দিন ও তানিয়া আক্তারের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

বিবাহবিচ্ছেদের পরও কামাল উদ্দিন সাবেক স্ত্রীর বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করতেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কয়েক দিন ধরে তিনি পূর্ব দুর্গানগর এলাকার একটি মাদ্রাসার বারান্দায় রাত কাটাচ্ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে তানিয়ার বাবা আমির হোসেনকে (৬০) মাদ্রাসার মাঠে একা পেয়ে মারধর করেন কামাল উদ্দিন। এতে আমির হোসেনের মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

পুকুরপাড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় হামলার অভিযোগ

ওই ঘটনার পর তানিয়া আক্তার ও তাঁর ভাই মোহাম্মদ আকাশ (২২) ক্ষুব্ধ হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। রোববার রাতে আকাশ ঢাকায় কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পর তাঁরা কামাল উদ্দিনকে খুঁজতে বের হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে একটি পুকুরপাড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল উদ্দিনকে দেখতে পেয়ে তানিয়া, কবরী বেগম ও আকাশ তাঁকে মারধর করেন। এ সময় মোহাম্মদ ফোরকান নামের স্থানীয় আরেক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কামালের মাথা, বুক, হাত ও পিঠে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য।

তবে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ

সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি ছুরি, রক্তমাখা বালু, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে তানিয়া আক্তার ও কবরী বেগমকে আটক করা হয়েছে। মোহাম্মদ আকাশ, ফোরকানসহ অন্যদের আটক করতে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি তদন্তাধীন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

See More

Latest Photos