আচমকা ওসির স্ত্রীর তাণ্ডব, হেনস্থার শিকার এএসআই: বদলি হলেন ওসি ও ভুক্তভোগী কর্মকর্তা

Total Views : 57
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানায় কর্মস্থলে ঢুকে এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এএসআই শাহনাজ আক্তার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ প্রশাসনসহ পুরো জেলায় ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি গত ৯ সেপ্টেম্বর ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। জিডি দায়েরের পরপরই ভুক্তভোগী নারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ওসি সহ একাধিক পুলিশ সদস্যকে দ্রুত বিভিন্ন থানায় বদলি করা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। এ সময় থানার ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) হঠাৎ থানায় প্রবেশ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নারী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে চরম অশালীন ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। প্রকাশ্যে এক নারী পুলিশ সদস্যকে এভাবে অপমানিত করার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিব্রত ও ভেঙে পড়েন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,

“ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই, তবে ঘটনাটি সত্যি।”


বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী এএসআই শাহনাজ আক্তার জানান,

“এটি পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারছি না। তবে আপনারা জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন, তার পুরোটাই সত্য।”

এএসআই শাহনাজ আক্তার জিডির বিবরণে আরও উল্লেখ করেন,

“ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা অবস্থায় ওসির স্ত্রী এসে অশালীন ভাষায় কথা বলেন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিব্রত ও অপমানিত হয়েছি।”

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওসির স্ত্রীর অসংলগ্ন আচরণের বিরুদ্ধে জিডি করার পরপরই রহস্যজনকভাবে এএসআই শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে জেলার বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে তড়িঘড়ি করে ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খানকে জরুরি ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ঘটনা-পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:

• ওসির স্ত্রী কর্তৃক হেনস্থার ঘটনায় ভুক্তভোগী এএসআই শাহনাজ আক্তার কর্তৃক জিডি দায়ের।

• এএসআই শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বানারীপাড়া থানায় বদলি।

• ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খানকে থানা থেকে ক্লোজ বা বদলি করা।

• ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলার বিভিন্ন থানায় বদলি।

ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি ও থানা থেকে গণবদলির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এগুলো ভুল তথ্য, এসব খবর কে ছড়ায়? থানায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

তবে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,

“এক নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ওসির স্ত্রীর কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”

See More

Latest Photos