বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন স্থানে ২০২৯ সালের মধ্যে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে বর্তমান সচিবালয়ের জায়গা ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২৯ সালে নতুন সচিবালয়ে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য, পুরোনো ভবনে কী হবে?
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
তিনি জানান, নতুন সচিবালয় নির্মাণের মূল প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন স্থানে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
৩১.৫৮ একর জমিতে নির্মিত হবে নতুন সচিবালয়
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আবদুল গনি রোডে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করা হয়নি। ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকা শহরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অফিসের জায়গা ও শৌচাগারের স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত কর্মী ও দর্শনার্থীর চাপেও কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমান সচিবালয়ে অফিসের জায়গা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে থাকা দপ্তরগুলোর জন্য আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি জায়গা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
নতুন কমপ্লেক্সে থাকবে ১৪টি ভবন
লুই আই কানের মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়ের ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে মোট প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট জায়গা থাকবে।
নতুন কমপ্লেক্সে ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি পার্কিংয়ের জায়গা থাকবে ভূ-উপরিভাগে। এ ছাড়া থাকবে একটি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘর।
প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
পুরোনো সচিবালয়ে হতে পারে ডিসি অফিস ও আদালত
সচিবালয় স্থানান্তরের পর আবদুল গনি রোডের বর্তমান স্থাপনাগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, পুরান ঢাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতে এসব দপ্তর বর্তমান সচিবালয়ের জায়গায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। অন্য সরকারি দপ্তরও সেখানে স্থান পেতে পারে।
তবে কোন দপ্তর সেখানে স্থানান্তরিত হবে, কিংবা বর্তমান সচিবালয়ের ভবন ও জমি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।