'আমি সেদিন জমি দখল বা চাঁদা তুলতে সেখানে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
'মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’, দল বিব্রত হওয়ায় পদত্যাগ: ইশরাক
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অভিযানে নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়া নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন ঘুণ্টিঘর এলাকা মাদকের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল না। অনেক থানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, নষ্ট হয়েছিল অনেক গাড়ি।
ইশরাক বলেন, স্থানীয়দের অনুরোধে শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানোর আগে তা প্রকাশ করা হয় না, কারণ এতে অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অভিযানের সময় পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানান তিনি।
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগস্টে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। ওই এলাকায় নিয়মিত নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। মাদক কারবারিদের কাছে দেশীয় পাইপগান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেদিনের অভিযান পূর্বনির্ধারিত ছিল।
ইশরাক হোসেনের ভাষ্য, সেদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ২০ থেকে ৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকেন। তাঁদের কয়েকজন তাঁর গাড়ির দিকে ছুটে আসেন। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেন তিনি। তাঁদের হাতে কোনো অস্ত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁদের হাতে অস্ত্র নেই নিশ্চিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্রটি পকেটে রেখে দেন।
তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে আটক করে।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওটি বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশ করা হয়, যা তাঁকে ও তাঁর দলকে বিব্রত করেছে। এ ছাড়া তাঁর নামে ঘণ্টায় ঘণ্টায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এ ইস্যুতে দল বিব্রত হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করতে চান বলে জানান।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। নিজের নিরাপত্তার জন্যই কিছু সময় আগ্নেয়াস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের যবাবে ইশরাক যানান মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি শতভাগ প্রস্তুত।