নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে, ‘শক্তিশালী জাতীয় সরকার’ গড়ার ঘোষণা

Total Views : 39
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) নিজের নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকার পর ‘শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো শিবিরই নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেরুজালেমে নিজ দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘লিকুদ দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। আমরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়ব।’

নেতানিয়াহু জানান, চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার আগে সরকার গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আগাম হয়ে যাবে। তিনি নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে চান। একই সঙ্গে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে কোনো সরকার গঠনের বিরোধিতা করেন তিনি।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো শিবির

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫২টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সম্ভাব্য আসন ৪৯টি। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ওই হিসাব থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

তবে বুথফেরত জরিপের ফল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়। ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক হিসাবেও দুই প্রধান শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৬১-এর নিচে থাকায় সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে অন্য দলগুলোর সমর্থন আদায় করতে হবে।

পরিবর্তনের দাবি আইজেনকটের

নির্বাচনের ফল নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধী শিবিরের নেতা ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।

আইজেনকট নেতানিয়াহুকে জনগণের রায় মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণের পর আবার নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি করা হবে বড় ভুল।

সরকার গঠনের প্রত্যয় জানিয়ে আইজেনকট বলেন, তিনি বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব দলগুলো

এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান শিবিরের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় আরব দলগুলোর সমর্থন, বিরত থাকা কিংবা অন্য দলের অবস্থান পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পক্ষে তিনি নন। অন্যদিকে, আইজেনকটের শিবিরও আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটের বিষয়ে সীমাবদ্ধতা জানিয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন সংগ্রহ করা দুই পক্ষের জন্যই কঠিন হতে পারে।

নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতাই নির্ধারণ করবে কে সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন। কোনো পক্ষ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

See More

Latest Photos