তিন বিচারককে মন্ত্রণালয়ে পদায়ন: ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল

Total Views : 29
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের ওই তিন সদস্যকে একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছিল। রিটে তাদের পদায়নসংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহার করে পুনরায় জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকনের পক্ষে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে যেসব পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, সেগুলো হলো:

• আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) জিএম ফারহান ইসতিয়াককে গত ৯ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন।

• গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে বদলি।

• গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক এসব প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী পদে বদলি বা নিয়োগের উদ্দেশ্যে জারি করা এসব স্মারক জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার আওতা ও পরিধির বাইরে। যেসব পদে বিচারিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে, সেগুলো ওই বিধিমালার ৪(১) বিধি বা তফসিলে উল্লেখ নেই।

রিট আবেদনে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়:

"আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের অর্থে জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রজাতন্ত্রের একটি সার্ভিস হলেও এটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিস থেকে কার্যত ও কাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র।"

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসকে কোনোভাবেই বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিসের সমপর্যায়ে রাখা বা একীভূত করা যাবে না। বিচারিক কর্মকর্তাদের মন্ত্রীদের একান্ত বা ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ মাসদার হোসেন মামলার রায়ে ঘোষিত নীতির পরিপন্থি।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন,

"জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। অথচ পদায়নসংক্রান্ত স্মারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি ন্যস্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নীতির পরিপন্থি।"

রিটের প্রার্থনায় ওই তিন বিচারিক কর্মকর্তার পদায়নসংক্রান্ত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের স্মারক কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে বিচারিক কর্মকর্তাদের বদলি বা নিয়োগ থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং কর্মকর্তাদের নিজ সার্ভিসে প্রত্যাহারের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।

See More

Latest Photos