নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে শনিবার বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের

Total Views : 34
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম, জালভোট, পোলিং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অভিযোগে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

প্রথমে শুক্রবার বিকেলে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তা এক দিন পিছিয়ে শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

ফলাফল প্রত্যাখ্যান জামায়াত প্রার্থীর

বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।

এর আগে রাত ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে তিনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।

দেলাওয়ার হোসেনের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। ভোটের দিনও পুরো নির্বাচনী এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়।

ভোটারদের ভয়ভীতি ও জালভোটের অভিযোগ

জামায়াতের এই প্রার্থীর দাবি, ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট না দিলে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাঁদের দেখিয়ে ব্যালটে সিল মারতে হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও পরে বিএনপির সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখান এবং টাকা দিয়ে কেন্দ্রে নিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, কেন্দ্রগুলোতে ৫০ শতাংশ ভোট পড়ার মতো উপস্থিতি দেখা যায়নি। অথচ ঘোষিত ফলাফলে ভোটের হার দেখানো হয়েছে ৬৪ শতাংশ।

এ ছাড়া কয়েকটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কারচুপির উদ্দেশ্যে কয়েকটি কেন্দ্রে মূল প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সরিয়ে অন্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার বিষয়টিও তিনি অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন জামায়াতের প্রার্থী।

আচরণবিধির কারণে কর্মসূচি পিছিয়ে শনিবার

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আহত কর্মী-সমর্থকদের দেখতে যান দেলাওয়ার হোসেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভা-সমাবেশ আয়োজনের ওপর নির্বাচনী আচরণবিধির বিধিনিষেধ থাকায় শুক্রবারের কর্মসূচি পিছিয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম, জালভোট এবং কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদেই এ বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি প্রার্থীর

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, শুরু থেকেই জামায়াত এই আসনের উপনির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জাতীয় ইস্যু তৈরির ষড়যন্ত্র করেছে। তাঁর দাবি, এই উদ্দেশ্যে জামায়াতের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। বর্তমান অভিযোগগুলোও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।

নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় বিএনপি প্রার্থীর

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় ছিলেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও উল্লেখ করার মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে তাঁর দাবি।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ওই আসনের উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

See More

Latest Photos