ইসলামে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি শুধুমাত্র সামাজিক সম্পর্ক নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। ইসলামি শরিয়াতে একজন পুরুষকে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তা কঠোর শর্তের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলা আবশ্যক। এটি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, ইসলামে স্ত্রীদের প্রতি ন্যায় ও দায়িত্ব পালন অপরিহার্য।
প্রথম স্ত্রী কখন রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করা যাবে?
কুরআনে বলা হয়েছে—
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۚ ذَلِكَ أَدْنَىٰ أَلَّا تَعُولُوا
‘এবং যদি তোমরা ভয় কর, যে অনাথদের প্রতি ন্যায়ভ্রষ্ট হবা, তবে তোমরা নারীদের মধ্যে তোমাদের পছন্দমতো দুজন, তিনজন বা চারজনকে বিবাহ কর। আর যদি ভয় কর, যে ন্যায্যভাবে আচরণ করতে পারবে না, তবে এক বিয়ে কর বা তোমাদের অধীনে থাকা নারীকে বিয়ে কর। এটি সঠিক সিদ্ধান্তের নিকটতম উপায়।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৩)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি আছে, কিন্তু শর্ত হলো— যখন প্রথম স্ত্রীর প্রতি ন্যায্যতা এবং সমতার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে তখন দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে।
দ্বিতীয় বিয়ে করার ক্ষেত্রে প্রধান শর্তগুলো হলো—
- প্রথম স্ত্রীর প্রতি ন্যায্যতা বজায় রাখা।
- আর্থিক ও মানসিকভাবে দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়িত্ব পালনে সক্ষম হওয়া।
- প্রথম স্ত্রী থাকলেও দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি বা ন্যায়ভিত্তিক আচরণ বজায় রাখা।
আরও পড়ুন
নবী করিম (সা.)-এর হাদিসেও এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
‘যে ব্যক্তি দুটি স্ত্রীর প্রতি ন্যায় করতে পারবে না, সে এক বিয়েতে সীমাবদ্ধ থাকুক।’ (বুখারি ও মুসলিম)
অর্থাৎ দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করার পূর্বে নিশ্চিত হতে হবে যে, প্রথম স্ত্রীর অধিকার, সম্মান এবং ন্যায্যতা ক্ষুন্ন হবে না। যখন অধিকার ও ন্যায্যতা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হবে তখনই দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করা যাবে। নতুবা নয়।
পরিশেষে ইসলামে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করা একটি অনুমোদিত বিষয়, তবে তা কঠোর শর্তের সঙ্গে যুক্ত। কুরআন ও সুন্নাহ উভয়ই নির্দেশ দেয়, যে যদি ন্যায়ভিত্তিক আচরণ, আর্থিক সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়া যায়, তবে একাধিক বিয়ে করা অনুপযুক্ত। ফলে একজন মুসলিম পুরুষের জন্য প্রয়োজন—
- প্রথম স্ত্রীর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা,
- আর্থিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা,
- ন্যায় ও নৈতিকতার প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া।
এ নিয়মগুলো মেনে চললে ইসলামেই বিবাহ একটি সুষ্ঠু, ন্যায়সংগত এবং পবিত্র সম্পর্ক হিসেবে পরিচালিত হবে।