নীরব জেলা রিটার্নিং অফিসারসহ পুলিশ প্রশাসন, উঠছে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

Total Views : 159
Zoom In Zoom Out Read Later Print

২১৪, ফরিদপুর-৪ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও বিএনপি প্রার্থী মো: শহিদুল ইসরামের পক্ষ-পাতিত্ব করার অভিযোগ


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী অঞ্চল ২১৪, ফরিদপুর-৪ আসন নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একজন স্থানীয় ভোটার ও বাসিন্দা রিটার্নিং অফিসারের (আরও)’র কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও জনমনে অসন্তোষসহ এ আসনে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয়-ভীতি বাড়ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো: শহিদুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও সভা-মিটিংয়ে ২১৪, ফরিদপুর-৪ আসনের চরভদ্রসন উপজেলার গাজীরটেক ইউয়িন পরিষদের নির্বাচিত দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কাজে সহায়তা করেন। যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি অভিযোগকারীর।

একজন নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও সভা-মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন—এমন একটি সুস্পষ্ট অভিযোগ একজন স্থানীয় ভোটার ও নাগরিক লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করেছেন। অথচ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই, এমনকি অভিযোগকারীকে ডেকে নেওয়ার ন্যূনতম উদ্যোগও চোখে পড়েনি।


প্রশ্ন উঠছে—এটা কি শুধুই প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো সংকট লুকিয়ে আছে?


ভুক্তভোগী ভোটার জানান, তিনি আইন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও আজ পর্যন্ত তাকে ডেকে নেওয়া হয়নি কিংবা অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের তদন্ত বা পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়নি। এতে করে অভিযোগটি কার্যত উপেক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে বলে তার দাবি।


নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। এটি নতুন কোনো আইন নয়, ব্যাখ্যারও অবকাশ নেই। তাহলে এমন একটি স্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগেও যদি রিটার্নিং অফিসার কার্যত নীরব থাকেন, তাহলে সাধারণ ভোটার কীভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা রাখবে?


আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—এই রিটার্নিং অফিসারকে ঘিরে শুরু থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষপাতিত্বের নানা অভিযোগ ও আলোচনা বিদ্যমান। বর্তমান অভিযোগের পরও নিষ্ধিসঢ়;ক্রয়তা সেই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এমন আচরণ বা নীরবতা নির্বাচনকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করে না, বরং ভোটারদের মাঝে ভয়, অনাস্থা ও হতাশা তৈরি করে।


স্থানীয় একাধিক সচেতন নাগরিক ও ভোটারদের অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো স্পষ্ট বিষয়ে প্রশাসনের এমন নীরবতা স্বাভাবিক নয়। বরং এতে রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার অনেক প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল থেকে শুরু করে এর ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় বিরাজ করছে।


স্থানীয় একাধিক সচেতন নাগরিকও ভোটারদের অভিযোগ—রিটার্নিং অফিসার কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ একজন কর্মকর্তা। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত বা নিষ্ক্রিয়তার প্রভাব পড়ে পুরো নির্বাচনী পরিবেশের ওপর।


নির্বাচন কমিশন বারবার বলে আসছে, তারা মাঠ প্রশাসনের ওপর কঠোর নজরদারি রাখছে। কিন্তু ২১৪, ফরিদপুর-৪ আসনের এই ঘটনায় সেই নজরদারির বাস্তব প্রতিফলন কোথায়—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরা।


এই নীরবতা কি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে অযাচিত সুবিধা দিচ্ছে?

এই নীরবতা কি অন্য প্রার্থীদের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে?

এই নীরবতা কি ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকারকে দুর্বল করছে?


এসব প্রশ্ন আর শুধু একটি অভিযোগকারীর নয়—এসব প্রশ্ন পুরো ফরিদপুর-৪

আসনের সচেতন নাগরিকদের।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোটার বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে রিটার্নিং অফিসার এর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে কিছুই হচ্ছে না—এতে করে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে আমাদের আশঙ্কা বাড়ছে।”


অভিযোগকারীর দাবি, রিটার্নিং অফিসার এর এমন নিষ্ক্রিয়তা পরোক্ষভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।


কিন্তু ২১৪, ফরিদপুর-৪ আসনে দেখা মিলছে ভিন্নতার যা স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগের বর্ণনায় উঠে এসেছে, বিএনপি মনোনীয়ত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম তার চলাফেরা ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এমন কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে; পলাশ মিয়া (আলগী ইউনিয়ন), মোতালেব, সাবেক চেয়ারম্যান (আজিমনগর ইউনিয়ন), খোকন মিয়া, চেয়ারম্যান (হামিরদী ইউনিয়ন), লাভলু ফকির, সাবেক চেয়ারম্যান (নাসিরাবাদ ইউনিয়ন), দেলোয়ার হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান (হামিরদী ইউনিয়ন), জিতু মুন্সী (ভাঙ্গা টাউন), সোবাহান মুন্সী (ভাঙ্গা পৌরসভা), সৈয়দ শাহা আলম শাহবুর, চেয়ারম্যান (নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়ন)।


স্বতন্ত্র প্রার্থী এ.এ.এম মুজাহিদ বেগ ও তার সমর্থকদের উপর বিএনপি প্রার্থীর লোকজন দিয়ে হামলা;

গত ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ তারিখে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ.এ.এম মুজাহিদ বেগ ও তার লোকজনসহ নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ী ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র ও লাঠি- শোঠাসহ তাদের উপর হামলা চালায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ী চালক বাবু তালুকদার (২৮)সহ কয়েকজনকে আঘাত করে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ বিষয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই বাদী হয়ে চরভদ্রসন থানায় মামলা দায়ের জন্য গেলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মামলা না নিয়ে, অভিযোগ হিসেবে নিয়ে, পরের দিন ১লা ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং তারিখে হামলাকারীদের দিয়ে সাধারণ মুচলেকা নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়। এ ঘটনার বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: শহিদুল ইসলামের সাথে আমাদের গোপন তথ্য সংগ্রহকারী ভিন্ন পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে পরবর্তীতে শহিদুলের লাস্ট নম্বর ০৬০২ ব্যবহৃত ওয়্যাটস্ধসঢ়; অ্যাপ নম্বর থেকে জানানো হয় থানায় এ বিষয়ে কোন মামলা হবে না। আমাদের সকল কিছু ব্যবস্থা করা আছে! আমরা সরকার গঠন করবো এটা পুলিশ প্রশাসন বুঝে! তাই তারা আমাদের পক্ষেই কাজ করবে! এটা আমাদের সিস্টেম করা।


বিএনপি প্রার্থী মো: শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও যতো অভিযোগ;

২১৪ ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম নিয়মিত তার নির্বাচনী ক্যাম্পে ভোজন, নৈশভোজনসহ সমর্থক ও কর্মীদের যাবতীয় আপ্যায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে যা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন শর্ত্বে রিটানিং অফিসার নিরব এমনকি রাত দশটার পরেও তার নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণা চলে কিন্তু পুলিশ প্রশাসন নিরব থাকে। গত ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে রাত প্রায় ১২ টা পর্যন্ত বিসিবি পরিচালক ও কণ্ঠ শিল্প আসিফ আকবরকে দিয়ে গান-বাজনা বিনোদন আয়োজন করে। যার ফলে এলাকার নাগরিকদের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘিত হয়েছে এ বিষয়ে সদরপুর থানার ওসি’র নিকট অভিযোগ করলেও ওসি বিষটির কোন কর্ণপাত না করে, বলে নির্ভাচনকালীন সময় এগুলো একটু-আধটু হয়েই থাকে।


মো: শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ফরিদপুর জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ যশোদা জীবন দেবনাথ-এর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক শেয়ার ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শুধু তাই নয়—এই যশোদা জীবন দেবনাথের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে ও বিভিন্ন মহলে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই অভূত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলকারীদের উপর গুলি, নির্যাতন ও স্বর্ণ চোরাচালন, জাল মুদ্রা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের টেন্ডারকেন্দ্রিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তার। এই সকল কার্যক্রমে যশোদা জীবন দেবনাথের একান্ত বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে মোঃ শহিদুল ইসলামের নাম বারবার উঠে আসছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ২১৪, ফরিদপুর-৪ আসনে এসব বিতর্কিত ব্যবসায়িক ও আর্থিক কর্মকা- তদারকি, ব্যবস্থাপনা এবং প্রভাব খাটানোর ক্ষেত্রে তিনি নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করছেন। যার বিরুদ্ধে গত ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ ইং তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ফরিদপুরের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সাংবাদিক সম্মেলন করে।


স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।



See More

Latest Photos