ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘নরক’ নামানোর হুঁশিয়ারি দিল ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব—

Total Views : 13
Zoom In Zoom Out Read Later Print

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে “নরক” বানানোর পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো অঞ্চল ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফগারি শনিবার এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলে এর প্রতিক্রিয়া শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই তার প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ না হলে ইরানের ওপর “নরক নেমে আসবে”।

 

ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা বার্তা আসে। ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রাখে, তাহলে পুরো অঞ্চলই তাদের জন্য “নরকে” পরিণত হবে। এই পাল্টা হুঁশিয়ারি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের মুখপাত্র এবং সামরিক নেতৃত্বের অন্যান্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদের মতে, ইরানের অবকাঠামো বা জাতীয় সম্পদে আঘাত করা হলে তার জবাব হবে কঠোর এবং অব্যাহত।

সামরিক কমান্ডার আলি আব্দোল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের হুমকিকে “অস্থির ও অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানের ওপর আঘাত এলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তাঁর এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মুখপাত্র জোলফগারি বলেন, উত্তেজনা আরও বাড়লে শত্রুপক্ষের জন্য পুরো অঞ্চলই ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান প্রতিরক্ষার পাশাপাশি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। না হলে এই উত্তেজনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

See More

Latest Photos