লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিমান হামলায় ১৮২ জনের মৃত্যু এবং ৮৯০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গত বুধবারের এই রক্তক্ষয়ী অভিযান কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকেও খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে: ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হামলাকে "নির্বিচার" বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের গণহত্যা লেবাননে : বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা
স্পেন ও ইতালি: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে "অসহনীয়" বলে উল্লেখ করেছেন। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, "আমরা লেবাননকে দ্বিতীয় গাজা হতে দিতে পারি না।"
মুসলিম বিশ্ব: কাতার এই হামলাকে "জঘন্য গণহত্যা" বলে বর্ণনা করেছে। তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেতানিয়াহু সরকার বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। পাকিস্তান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের উদ্বেগ: জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, রেড ক্রস ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ধ্বংসলীলায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে এতসব সমালোচনার মাঝেও নেতানিয়াহু প্রশাসন এবং ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে, এই যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।