রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। এই পদক্ষেপকে ‘দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা’ জানিয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট নামগুলো তালিকা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে চীন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে তৃতীয় দেশের কিছু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনে নিবন্ধিত কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তির সামগ্রী সরবরাহ করেছে। চীন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। বেইজিংয়ের মতে, এই পদক্ষেপ দুই পক্ষের পূর্ববর্তী সমঝোতার মূল চেতনার পরিপন্থী এবং এটি পারস্পরিক আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি চীন-ইইউ সম্পর্কের স্থিতিশীলতাও এতে দুর্বল হচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, চীনা কোম্পানি ও নাগরিকদের বৈধ অধিকার রক্ষায় বেইজিং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে যে কোনো ধরনের পরিণতির দায় সম্পূর্ণভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেই বহন করতে হবে।
ইউরোপ খেসারত দেবেনিষেধাজ্ঞা না তুললে —কড়া বার্তা দিল বেইজিং
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে চীনও ইউরোপের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে এবং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এবার চীনা প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট