সরকার গঠনের আড়াই মাসের মাথায় প্রথমবার সিলেট সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সফর ঘিরে সিলেটে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সিলেটে অংশ নেবেন যেসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেন। বেলা ১১টায় সুরমা নদীর তীরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর নগর ভবনের সামনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বহুল প্রতীক্ষিত বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সিলেট সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বিরতি শেষে বেলা ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে বিকাল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলীয় এক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে সিলেট বিভাগের চার জেলার মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রত্যাশা ও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিলেটে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয়লেনের কাজ দ্রুততম সময়ে সমাপ্ত করার দাবি এখন তুঙ্গে।
সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মাধ্যমে ২৫ দফা সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম হলো সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা করা এবং পুরো বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেটভুক্ত করা। এছাড়া ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন এবং হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, তেল সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং নদ-নদী খননসহ বিরতিহীন আধুনিক ট্রেনের ব্যবস্থা করা।
হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের ফসল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং মৌলভীবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিও সামনে আসছে। চা শ্রমিকরা ভূমির অধিকার, মণিপুরীরা তাদের ১৪ দফাসহ ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী তাদের দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রত্যাশা করছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেটের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিলেটসহ পুরো দেশ নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে বলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে তারেক রহমান দলীয় প্রধান হিসেবে সিলেটে জনসভা করলেও আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে উন্মুখ হয়ে আছে সিলেটবাসী।