বেইজিং সফরের আগে চীনের সঙ্গে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা কূটনৈতিক সংঘাতের খবর সরাসরি নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান সংকট ঘিরে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে—এমন আলোচনাকে “ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন।
চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নেই ইরান ইস্যুতে : ট্রাম্প
৫ মে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে বেইজিং এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের কোনো পদক্ষেপের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেনি। তাঁর ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, তিনি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যার কারণ হবে।”
আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্চের নির্ধারিত সফর পিছিয়ে মে মাসে নেওয়া হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, আসন্ন এই বৈঠকে ইরান সংকট, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে চীন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পক্ষে সক্রিয় অবস্থান নেওয়ায় বেইজিংয়ের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনও এখন চীনের মধ্যস্থতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে আগ্রহী।
হোয়াইট হাউসের ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প চীনের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি বলেন, চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো “অসহযোগিতামূলক আচরণ” তিনি দেখেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফরের আগে এমন বক্তব্য মূলত দুই দেশের আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক রাখার কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। সামরিক উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালী সংকট এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে বিশ্বশক্তিগুলো এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংলাপকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে মার্চে নির্ধারিত সফর স্থগিত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই শঙ্কা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নজর আগামী সপ্তাহের বেইজিং বৈঠকের দিকে। কারণ, এই বৈঠকের ফলাফল শুধু যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট