লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমাগত সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজের অসন্তোষ ও বিরক্তির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ, আমাদের কথা হয়েছে। আমি একে রাগ বলব না, তবে লেবাননের সঙ্গে তার এই ক্রমাগত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুটা বিরক্ত (Perturbed)।" তবে এই অসন্তোষের বাইরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অন্যথায় বেশ ভালো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না,আমি না থাকলে , লেবানন যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর ওপর ‘বিরক্ত’ ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
একই সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ফুসলিয়ে বা কারসাজি করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামিয়েছেন—এমন দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের ছিল উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "সে (নেতানিয়াহু) আমাকে ট্রিকস করেছে? যুদ্ধ তো আমি নিজেই শুরু করেছি।" ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি যোগ করেন, "আমরা কোনোভাবেই তাদের (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না।"
নিজের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারীদের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প তাদের ‘ডাম্বোক্র্যাটস’ (ডেমোক্র্যাটদের প্রতি কটাক্ষ) বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, "এরা আসলে কী করছে তা নিজেরাও জানে না।" ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজের উদ্বেগের ইতিহাস টেনে ট্রাম্প মনে করিয়ে দেন যে, বারাক ওবামার আমলে করা ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে তার প্রথম মেয়াদেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছিলেন।
‘ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না’
ইরানের পারমাণবিক হুমকির সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু যে ইসরায়েল হতো, তা উল্লেখ করে ট্রাম্প এক নজিরবিহীন দাবি করেন। তিনি বলেন, "ইরানের প্রথম আঘাতটি সম্ভবত ইসরায়েলের ওপরই আসত। আমি আপনাকে একটা কথা পরিষ্কার করে বলি, আজ যদি আমি না থাকতাম, তবে পৃথিবীর বুকে ইসরায়েল নামে কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকত না।"