বাংলাদেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান উদ্যোগ এবং এ ক্ষেত্রে এডিবির সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ এডিবির সহায়তায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি আর্থিক খাতকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও টেকসই করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে এডিবির প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।
এ সময় এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং সংস্কার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় এডিবির সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আগ্রহও তিনি প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান ও ড. মো. কবির আহমেদ এবং ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টের (এফএসএসএসপিডি) সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট ও সুশাসনের ঘাটতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় মূলধন জোগান এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে একটি আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই আর্থিক খাত গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।