1৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন ইমরান খান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ক্ষমতা থেকে অপসারণের পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেট তারকা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাত সাবেক অধিনায়ক। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন তরা। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ান সাবেক অধিনায়কেরা জানিয়েছেন, তারা কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এ উদ্যোগ নেননি। বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খানের বন্দিজীবনের মানবিক দিক নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তারা চিঠি দিয়েছেন।
ইমরান খানের পাশে সাবেক সাত অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ার
ইমরানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলায় তারা কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেন, ‘বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে কারাগারে বন্দী একজন ব্যক্তির সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, সেটি মানবিকতার মৌলিক প্রশ্ন।’
চিঠিতে ইমরান খানের অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। তার ছেলে ও বোনেরাও কয়েক মাস ধরে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক ২২ জন অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়ে ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা অভিযোগ করেন, ইমরান যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, তা দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।
চিঠিতে ইমরানের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ১৪ জন সাবেক অধিনায়কের স্বাক্ষরে ইমরানের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান তার সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। ইমরান খানের চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো জবাব পাননি তিনি।