অটোরিকশা থেকে লাফিয়েও রক্ষা পেল না তাজমীন, হত্যার ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

Total Views : 22
Zoom In Zoom Out Read Later Print

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, অটোরিকশার গতিপথ পরিবর্তন করায় তাজমীন গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পরে তাকে আটক করে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকায় ধানখেতের আইলের পাশে তাজমীনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তাঁর বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমীন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম কুমিল্লায় রেনাটা পিএলসিতে কর্মরত। মা কেয়া আক্তার। পরিবারের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে তাজমীন পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। ৩০০ টাকা ভাড়ায় চালক সুমন মিয়া তাকে নিয়ে রওনা হন।

পথে সুমন তাজমীনের জন্য ১০০ টাকার কলা ও রুটি কেনেন। তবে বাসার দিকে না গিয়ে অটোরিকশার গতিপথ পরিবর্তন করে চাঁদপুরগামী সড়কের দিকে নিয়ে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমীন আপত্তি জানায় এবং চালকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে তাজমীন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন তাকে ধানখেতের পাশের নির্জন স্থানে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। এরপর ধর্ষণের চেষ্টা বা ঘটনায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নয়, বরং পুলিশের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাজমীন ধস্তাধস্তি ও চিৎকার করলে সুমন গামছা দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ ফেলে রেখে যান বলে পুলিশের দাবি।

মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান সুমন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর সুমন তাজমীনের ভ্যানিটি ব্যাগ, আইফোন ও স্কুলব্যাগ নিয়ে যান। পরে ব্যাগটি পাশের ধানখেতে ফেলে অন্য একটি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর কাছের কাচিকাটা মসজিদের পুকুরে হাত-মুখ ধুয়ে আইফোনটি সেখানে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, সুমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার পরবর্তী অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হবে।

See More

Latest Photos