বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা: নিজস্ব AI ও সাইবার নিরাপত্তায় জোর

Total Views : 16
Zoom In Zoom Out Read Later Print

সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ১২ মাসের মধ্যে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন ডায়ালগ’-এ সরকারি কর্মকর্তারা প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আলোচনায় সরকারি সেবায় এআইয়ের ব্যবহার, উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, নিজস্ব এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কম্পিউটিং চিপ ও মেমোরি মডিউল সংগ্রহের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার এবং তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সরকারি সেবায় এআইয়ের সম্ভাবনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, আবেদন যাচাই এবং বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ রয়েছে। যথাযথ তদারকি থাকলে এ প্রযুক্তি সময় ও ব্যয় কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

তবে সরকারি কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং ভুল তথ্য শনাক্ত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এআইয়ের তৈরি ফলাফল যাচাই ছাড়া ব্যবহার করলে ভুল সিদ্ধান্ত বা বিভ্রান্তির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের সেবায় সাইবার হামলা হলে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য শক্তিশালী প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, তথ্য এনক্রিপশন এবং দ্রুত ঘটনার প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, দুই ধাপের যাচাইকরণ এবং সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এআইয়ের সঙ্গে বাড়ছে নতুন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কম্পিউটারে সরাসরি এআই চালানো, স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সহকারী এবং তথ্য বিশ্লেষণের উন্নত ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করছে। এসব প্রযুক্তি ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমানো, কাজের গতি বাড়ানো এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তন কাজে লাগাতে হলে শুধু প্রযুক্তি সংগ্রহ নয়, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্থানীয় ভাষায় এআই তৈরি এবং দেশীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সহায়তার দিকেও নজর দিতে হবে।

নিজস্ব এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তথ্যের মান, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর সুফল কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই হবে উদ্যোগটির সাফল্য মূল্যায়নের প্রধান বিষয়।

See More

Latest Photos