শেরাটন ঢাকা, বনানী
মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে নীতিগত সংস্কার: প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গণসাক্ষরতা অভিযানের জোরালো প্রস্তাবনা
মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে নীতিগত সংস্কার - প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘From the Field to Reform: Advancing Primary Education in Bangladesh’ (মাঠপর্যায় থেকে সংস্কার: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা) শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী; শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব চিত্রের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংস্কারের প্রস্তাব ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আদিবাসীদের কাছে শিক্ষক গাইডলাইন পৌঁছে দেওয়া এবং স্কুল ক্যালেন্ডার নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার; কারণ জুম চাষের সময় পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তাই তাদের জন্য সমতলের মতো রমজান মাসের ছুটির প্রয়োজন নেই এবং এখানে অঞ্চলের ভিত্তিতে সমন্বয় করা আবশ্যক। বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এক অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো দেশে স্কুল বন্ধ করে না দিয়ে তা বিকেন্দ্রীকরণ করার ওপর তিনি জোর দেন। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা সমাজকল্যাণের আওতা থেকে বের করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার জন্য তিনি নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং শিক্ষকদের ক্যারিয়ার পাথওয়ের বিষয়ে বলেন যে, একজন প্রধান শিক্ষক যদি যোগ্য হন তবে তিনি কেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি হতে পারবেন না, তা ভেবে দেখা উচিত। মিড ডে মিল চালুর ক্ষেত্রে রোটারী ক্লাবের মতো বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টর ও দাতব্য সংস্থাকে স্কুল এডপ্ট প্রোগ্রাম গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে তিনি জানান, সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা চাইলে নিজ গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের দায়িত্ব নিতে পারেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির কারণে (যেটা এ বছর ২ শতাংশ) গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (GPE)-এর কমিটমেন্ট লিস্টে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি জিপিই এর একজন বোর্ড মেম্বার হিসেবেও গর্ববোধ করেন। এছাড়া, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্ভব হলে সব স্কুলের ছাদে সোলার প্যানেল বাধ্যতামূলক করা এবং দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো ‘সমন্বিত শিক্ষা আইন’ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি জোরালো দাবি জানান। এই কর্মশালায় গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীর সঙ্গে প্রোগ্রাম অফিসার সিজুল ইসলামও অংশগ্রহণ করেন।