আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ, আফগান বোর্ডকে বিসিবির চিঠি

Total Views : 22
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ওমানের মাসকাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে সিরিজে আম্পায়ারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিরিজের দুটি ম্যাচে আম্পায়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি) চিঠি দিয়েছে বিসিবি। একই সঙ্গে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আফগান অধিনায়ক সোহেল খান নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ১১ ওভার বোলিং করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকার জানিয়েছেন, আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো অধিনায়কের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বোলিংয়ের নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের অভিযোগ জানাতে প্রতিবেদনের সঙ্গে আলাদা একটি নোটও যুক্ত করা হয়েছে।

ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মাসকাটে ম্যাচ রেফারি ইয়াসির লতিফজাইয়ের সঙ্গে দুই দফায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এ সময় সন্দেহজনক লেগ বিফোর উইকেট (এলবিডব্লিউ) সিদ্ধান্তের ভিডিও এবং আফগান অধিনায়কের ১১ ওভার বোলিংয়ের ফুটেজ দেখানো হয়।

এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার করতে পারেন। বাংলাদেশের অভিযোগ, সিরিজের তৃতীয় যুব ওয়ানডেতে আফগান অধিনায়ক সোহেল খান নিজের ১০ ওভার শেষ করার পরও আরও এক ওভার বোলিং করেন। তবে স্কোরকার্ডে ওই ওভারটি শাহ ফয়সাল রহিমির নামে নথিভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ দলের দাবি, অতিরিক্ত ওভারটি আসলে করেছিলেন সোহেল।

হান্নান সরকার বলেন, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিনায়কের প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ ওভার বোলিংয়ের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে জানাতে একটি বিশেষ নোট যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত প্রতিবেদন ফরমে এ ধরনের বিস্তারিত অভিযোগ জানানোর আলাদা জায়গা না থাকায় অতিরিক্ত নোট দিতে হয়েছে।

ঘটনাটি কীভাবে তাঁদের নজরে আসে, সে বিষয়ে হান্নান জানান, দলের ম্যানেজারের ফোনে অনলাইন স্কোরকার্ড দেখে তাঁরা বোলারদের ওভার হিসাব করছিলেন। দলের বিশ্লেষকের রেকর্ড অনুযায়ী, সোহেল ইতিমধ্যে ১০ ওভার বোলিং করেছিলেন। বিষয়টি ধরা পড়ার সময় তিনি নতুন ওভার শুরু করে দিয়েছিলেন। ওভারটি শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দল আম্পায়ারদের বিষয়টি জানায়।

কোচের দাবি, ম্যাচ রেফারিকে ভিডিও দেখিয়ে স্কোরকার্ডে ভুলভাবে ওভার নথিভুক্ত হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অন্য এক বোলার আম্পায়ারের কাছে নিজের ক্যাপ জমা দিয়েছিলেন। পরে ক্যাপটি ফিরিয়ে নিয়ে সোহেল বোলিং করেন। কিন্তু স্কোরার বিষয়টি বুঝতে না পারায় ওভারটি অন্য বোলারের নামে নথিভুক্ত করেন।

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের পরও আম্পায়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ দল। এলবিডব্লিউ ও ক্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা। এসব বিষয় নিয়ে দুই দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। পরে অবশ্য দুই পক্ষ করমর্দন করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

এরপর বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি আম্পায়ারিং নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়ে এসিবিকে ইমেইল পাঠায়। বিসিবির এক কর্মকর্তার ভাষ্য, দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো আফগান বোর্ডকে অবহিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানোই ছিল চিঠির উদ্দেশ্য।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

See More

Latest Photos