এআইয়ের কারণে বাড়ছে সফটওয়্যারের নিরাপত্তাঝুঁকি, বড় সংকটের শঙ্কা

Total Views : 25
Zoom In Zoom Out Read Later Print

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সফটওয়্যারের এমন সব নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করা যাচ্ছে, যেগুলো বছরের পর বছর অজানা ছিল। এতে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খুঁজে বের করা সহজ হলেও সাইবার অপরাধীদের জন্য সেসব দুর্বলতা কাজে লাগানোর সুযোগও বাড়ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক মাসে এ ধরনের ত্রুটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে একের পর এক নিরাপত্তা সংকট দেখা দিতে পারে।

সম্প্রতি প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর ইউরোপ ও এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি সংস্থা এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একাধিক ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে নেওয়া এ পদক্ষেপ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের পূর্বাভাস হতে পারে।

ইন্টারনেট অবকাঠামো ও ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ প্রিন্স জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারে আরও কয়েকটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি তাঁদের নজরে এসেছে। তাঁর মতে, এআইয়ের সাহায্যে ইন্টারনেটের মৌলিক অবকাঠামোয় ব্যবহৃত সফটওয়্যারের কোড দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অজানা থাকা দুর্বলতাগুলো একের পর এক সামনে আসছে।

ম্যাথিউ প্রিন্সের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক বছর সাইবার নিরাপত্তা খাতকে ধারাবাহিক চাপের মধ্যে কাজ করতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগামী কয়েক বছর এমন যাবে যে প্রতি সপ্তাহেই মনে হবে, সবকিছু ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।’

পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটি ঘিরে সাম্প্রতিক তৎপরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তাত্রুটি ও অনুপ্রবেশের ঘটনা সামনে এসেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভালনচেকের গবেষক প্যাট্রিক গ্যারিটির মতে, এসব ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পিএইচপির বিকল্প হিসেবে বহুল ব্যবহৃত নোড ডট জেএস এবং স্ট্রিমিং মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম প্লেক্সের গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া এআই সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত লাইটএলএলএম এবং অ্যাপ্লিকেশন হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম রেলওয়েতে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে এসেছে।

আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি হয় বিপুল পরিমাণ কোডের সমন্বয়ে। এসব কোডের মধ্যে থাকা ছোটখাটো ত্রুটি সহজেই নজর এড়িয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো দুর্বলতা বছরের পর বছর সফটওয়্যারের ভেতরে থেকে যায়, অথচ নির্মাতারাও সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন না।

আগে এ ধরনের জটিল নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ সময় ধরে কোড পরীক্ষা করতে হতো। কোনো দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সফটওয়্যারে অনুপ্রবেশের কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করতেও দক্ষ গবেষকদের কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগত। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ত্রুটি সংশোধন, সমাধান পরীক্ষা এবং ব্যবহারকারীদের কাছে নিরাপত্তা হালনাগাদ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পেত।

কিন্তু এআইয়ের অগ্রগতিতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই মডেলগুলো এখন বিপুল পরিমাণ কোড একসঙ্গে পরীক্ষা করে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব দুর্বলতা কাজে লাগানোর উপযোগী কোডও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

ফলে নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত করা এবং তা সংশোধনের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান ক্রমেই কমে আসছে। কোনো ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেটি সংশোধন করার আগেই সাইবার অপরাধীরা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। এতে সফটওয়্যার নির্মাতা ও সাইবার নিরাপত্তা দলগুলোর ওপর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ, এআই একদিকে যেমন নিরাপত্তা দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করে প্রতিরক্ষা জোরদারে সহায়তা করছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তি সাইবার অপরাধীদেরও শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই সফটওয়্যারের নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা, দ্রুত হালনাগাদ এবং দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পরপরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

See More

Latest Photos