ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার জয়কে ‘পাতানো’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। একই সঙ্গে লুলাকে পছন্দ করেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
লুলার নির্বাচনী জয় ‘পাতানো’, প্রমাণ ছাড়াই দাবি ট্রাম্পের
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লুলা জয়ী হওয়ার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনটি তাঁর কাছে আরেকটি ‘কারচুপিপূর্ণ’ নির্বাচন বলে মনে হয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে যা ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এমন হতে হবে, যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না।
তবে ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, সে প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিল চালাচ্ছি না, আমি যুক্তরাষ্ট্র চালাচ্ছি।’ একই সঙ্গে লুলার প্রতি নিজের ইতিবাচক মনোভাবের কথাও জানান তিনি।
চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত লুলার
রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন লুলা। ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয়, বরং চতুর্থবারের মতো দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন।
নির্বাচনে ট্রাম্প সরাসরি কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ শিবিরের অনেকেও বলসোনারো পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
লুলার বিজয়কে তাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী শক্তির উত্থানের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের সময় বাড়ানো নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারো ফল নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনি ফল বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন।
ভোটারদের পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কিছু এলাকায় ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের পেছনে লুলার নির্বাচনী শিবিরের অনুরোধ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পও প্রশ্ন তুলেছেন এবং একে ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুললেও বলসোনারোর নির্বাচনী শিবিরও কিছু এলাকায় সময় বাড়ানোর পক্ষে অনুরোধ জানিয়েছিল। লুলা প্রায় ৪০ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়ায় সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।
নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুললেই তা প্রমাণিত হয় না। অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
লাতিন আমেরিকার নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
লুলার বিজয়ের পর ব্রাজিলের রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে অভিযোগ ও প্রমাণিত অনিয়মের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।