চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেবে সরকার

Total Views : 39
Zoom In Zoom Out Read Later Print

আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি উপকরণ ও বিভিন্ন সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লকে পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

১৯ লাখের বেশি কৃষকের তথ্য সংগ্রহ

কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৯ লাখ ২৫ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত প্রায় ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে।

কৃষকদের নিবন্ধন, তথ্য যাচাই ও ব্যাংক হিসাব খোলার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।

৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলায় কার্যক্রমের উদ্বোধন

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কৃষক কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে।

এ ধাপে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন। নির্বাচিত এলাকাগুলোতে কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ে বিতরণ করা হয় কার্ড

কর্মসূচির প্রাথমিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যাচাই করতে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। এ হিসাবে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষক কার্ডে মিলবে ১০ ধরনের সেবা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, আর্থিক প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়ার তথ্য এবং বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া এবং কৃষিসেবা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।

কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের চাহিদা নিরূপণের কাজ চলছে। কৃষকের প্রয়োজন সময় ও উৎপাদন পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হওয়ায় তথ্য সংগ্রহে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি জানান, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীনের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লকে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হবে। চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিবন্ধন, তথ্য যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও কার্ড বিতরণের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

See More

Latest Photos