একই সঙ্গে প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরতে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেছেন বিচারক।
গরু জবাইয়ের মামলায় যাবজ্জীবন, রায়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি আদালতের
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) গান্ধীনগর জেলার একটি আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ বি আর রাজপুত এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ওয়াসিম কুরেশি, মোহাম্মদ রফিক কুরেশি ও আসফাক বাহেলিম। তাঁদের কাছ থেকে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস উদ্ধারের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছিল।
রায়ে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি
রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রাচীন সংস্কৃত ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতির উল্লেখ করেন বিচারক। তিনি বলেন, গরুকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে নয়, বরং বস্তুগত সমৃদ্ধি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিচারক মনুস্মৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গবাদিপশুর সুরক্ষা ও পরিচর্যার দায়িত্ব বৈশ্য শ্রেণির ওপর অর্পণ করেছিলেন ঋষি মনু। এ ছাড়া বৈদিক বিবাহের একটি প্রাচীন রীতি ‘অর্ষ বিবাহ’-এর ক্ষেত্রেও গরু ও ষাঁড়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বেদসহ অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত আরও বলেন, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কামধেনুকে ঐশ্বরিক গাভি এবং গোপ্রজাতির আদি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গরুকে জগতের মাতা এবং তার মধ্যে ৩৩ কোটি দেবতার বাস রয়েছে বলেও ধর্মীয় বিশ্বাসের উল্লেখ করেন বিচারক।
যেভাবে গ্রেপ্তার হন আসামিরা
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ২৭৭ কেজি গরুর মাংস, পশু জবাইয়ে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং মাংস পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, একটি চক্র দুর্বল বা দুধ দেওয়া বন্ধ করেছে—এমন মহিষ কেনার পর অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পশু জবাই করে মাংস সংগ্রহ করত। পরে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই মাংস বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় গুলাম মইন নামে এক ব্যক্তির কাছে মাংস বিক্রির পরিকল্পনার কথাও আদালতে তুলে ধরে প্রসিকিউশন।
মামলার বিচার শেষে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন ৫৪ জন সাক্ষী এবং ১৮টি নথি উপস্থাপন করে।
রায়কে স্বাগত উপমুখ্যমন্ত্রীর
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে গরু জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সঠিক তদন্ত এবং শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে এ সাজা নিশ্চিত করায় গান্ধীনগর পুলিশ ও সরকারি আইনজীবীদের অভিনন্দন জানান তিনি।
গরু জবাইয়ে গুজরাটের কঠোর আইন
২০১৭ সালে গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৪ সংশোধন করে গরু জবাইয়ের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করে রাজ্য সরকার। এর ফলে গরু জবাইয়ের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করা ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পায় গুজরাট।
সংশোধিত আইনে গরুর মাংস পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধেও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
এর আগে ২০১১ সালে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে গরু জবাই এবং গরুর মাংস পরিবহন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল রাজ্য সরকার।