রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আজ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১২৯। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১২তম।
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ১২তম, বাতাসের মান ১২৯
আইকিউএয়ারের তালিকা অনুযায়ী, ওই সময়ে ২২৮ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল সৌদি আরবের রিয়াদ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ছিল ১৭২। ১৭১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইরাকের বাগদাদ।
এ ছাড়া ভারতের মুম্বাই ১৬১ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৫৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
একিউআই স্কোরে বায়ুর মানের শ্রেণিবিভাগ
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই একটি নির্দিষ্ট এলাকার বাতাস কতটা দূষিত এবং তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা দেয়।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ বায়ুমানের নির্দেশক।
যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি
বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং আগে থেকে শ্বাসযন্ত্র বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
সংবেদনশীল গোষ্ঠীর সদস্যদের দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস
বাংলাদেশে বায়ুর মান নির্ধারণে বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)—এই পাঁচ ধরনের দূষক বিবেচনা করা হয়।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি জড়িত। সংস্থাটির হিসাবে, বিশ্বে প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে।