সাপের ছোবল খাওয়ার পর মুঠোফোনের আলো জ্বেলে সেই সাপই ধরে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন আবদুল কাদের (৫০) নামের এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ধরা সাপটি বিষধর নয়। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে আবদুল কাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ছোবল দেওয়ার পর সাপ ধরে হাসপাতালে হাজির, রোগীকে রাখা হলো পর্যবেক্ষণে
আবদুল কাদেরের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আঙ্গারগাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি সাপ তাঁকে ছোবল দেয়। এরপর মুঠোফোনের আলো জ্বেলে খুঁজে সাপটি ধরে ফেলেন তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাঁদের সহযোগিতায় সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন। এরপর সাপটি সঙ্গে নিয়েই সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তিনি। আঙ্গারগাড়া এলাকা সখীপুরের কাছাকাছি হওয়ায় দ্রুত সেখানে পৌঁছান আবদুল কাদের।
সাপ দেখতে হাসপাতালে ভিড়
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আবদুল কাদের জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাপটি দেখতে হাসপাতালে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে আবদুল কাদেরের স্বজনেরা একজন সাপুড়েকে ডেকে আনেন। সাপুড়ে এসে সাপটি নিয়ে যান।
পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে রোগীকে
চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির বলেন, আবদুল কাদেরের সাহস দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাপটি বিষধর নয় বলে জানা গেছে। এ কারণে তাঁকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
সেলিম কবির বলেন, কাউকে সাপে কামড়ালে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সাপ ধরতে যাওয়া বিপজ্জনক এবং এতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।