calendar_today বৃহস্পতিবার, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ • ৫ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
জামজামী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ◆ গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ ◆ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা নামল ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্টের ◆ ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা ◆ রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত, আহত ২ ◆ সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী
home হোম / জাতীয় / ‘শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেবেন না’—রূপগঞ্জের শিমুলিয়া ও মুলাদীতে শত পরিবারের আকুতি
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন

‘শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেবেন না’—রূপগঞ্জের শিমুলিয়া ও মুলাদীতে শত পরিবারের আকুতি

নব্বইয়ের দশকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য জমি ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাদের। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ • সন্ধ্যা ০৬:১০
history আপডেট: ৩ মাস আগে
timer ৬ মিনিট পড়ার সময়
visibility ২২৬ বার পঠিত

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, একটি সরকারি সংস্থা শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের প্রায় ৩৮ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও জমি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক জীবনে দু’বার উচ্ছেদের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দুই গ্রামের মানুষ।


আশ্রয় হারানোর ভয়ে কাতর পরিবারগুলো

পূর্বের অধিগ্রহণে বিশাল পরিমাণের পৈতৃক জমি হারিয়েছিলেন এই এলাকার মানুষজন। তৎকালীন ক্ষতিপূরণের সামান্য টাকা দিয়ে মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ জমিতে নতুন করে ঘর তুলেছিলেন তারা। বর্তমানে এই ছোট ছোট বাড়িগুলোই পরিবারের একমাত্র ঠিকানা।


স্থানীয় অধিবাসীদের আকুতি, জীবনের শেষ সম্বল বলতে আর কিছুই বাকি নেই। আবারও উচ্ছেদ করা হলে মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থান তাদের থাকবে না। একাধিকবার উচ্ছেদের মতো মানসিক ও আর্থিক ধকল সহ্য করার সক্ষমতা তাদের আর নেই বললেই চলে।


ক্ষতিপূরণ ও জীবিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অধিগ্রহণের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণের হার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সরকারি রেট বর্তমান বাজারদরের চেয়ে বহু গুণ কম। এই অর্থে আশপাশের এলাকাতেও এক খণ্ড জমি কিনে ঘর তোলা বা পুনর্বাসিত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব।


অন্যদিকে, রূপগঞ্জের এই পরিবারগুলোর অধিকাংশের জীবন ও জীবিকা কৃষিনির্ভর। বসতভিটার সঙ্গে সঙ্গে চাষের জমি হারিয়ে ফেললে আয়ের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে স্থায়ীভাবে বেকার ও গৃহহীন হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার জমি অধিগ্রহণের তোড়জোড়ে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। আতঙ্কগ্রস্ত বাসিন্দারা সরকারি সংস্থার কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে বর্তমান বসতিগুলো অক্ষত রেখে কোনো বিকল্প চিন্তা করা হয়।


তারা মনে করেন, পূর্বাচল এলাকায় এখনও হাজার হাজার বিঘা খালি জায়গা ও সরকারি খাস জমি পৌঁছে আছে। স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি না উচ্ছেদ করে সেইসব খালি জমি বা খাস জমিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। 


এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পূর্বাচল এলাকায় এখনও হাজার হাজার বিঘা খালি জমি ও সরকারি খাস জমি রয়েছে। তাই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বসতিপূর্ণ গ্রাম উচ্ছেদ না করে ওইসব খালি ও সরকারি খাস জমিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পুনর্বাসন বা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেওয়া হোক। এতে একদিকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে নিরীহ সাধারণ মানুষকে দ্বিতীয়বারের মতো ঘরবাড়ি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হতে হবে না। উন্নয়নের স্বার্থে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় একটি মানবিক ও টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।


এটি হলে একদিকে সরকারি প্রকল্পের কাজও এগোবে, অন্যদিকে অসহায় পরিবারগুলোকেও দ্বিতীয়বারের মতো উদ্বাস্তু হতে হবে না।


দীর্ঘমেয়াদি এই অনিশ্চয়তা থেকে নিস্তার পেতে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থায়ী এবং মানবিক এক সমাধানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের মানুষ।