calendar_today বৃহস্পতিবার, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ • ৫ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নওগাঁয় শিক্ষার্থী নিহত ◆ পোশাকশ্রমিকরা কাজে ফিরছেন ◆ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: বিশ্ববাজারে টানা চার দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম ◆ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বক্তব্যের জের: নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ ◆ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব: উজিরপুর উপজেলায় তোলপাড় ◆ দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২ টাকা ◆ ইরানকে সহায়তার দায়ে ভারত ও তুরস্কের একাধিক কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ◆ মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চলে তৈরি হবে জ্বালানি অবকাঠামো, প্রধানমন্ত্রী ◆ জামজামী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ আহমেদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ◆ গবেষণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা: অধ্যাপক মতিনুর রহমানের নেতৃত্বে ইবির নতুন উদ্যোগ ◆ ‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ
home হোম / অর্থনীতি / জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ খুব জরুরি: ইকবাল হাসান মাহমুদ
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ খুব জরুরি: ইকবাল হাসান মাহমুদ

জ্বালানি তেল আমদানি, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং সংকটকালীন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ • বিকাল ০৪:১৬
history আপডেট: ২ মাস আগে
timer ১২ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৩৫ বার পঠিত
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে আগ্রাসী পরিকল্পনা নিয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সুবিধা, পাঁচ বছরের কর অবকাশসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক ও অপেক্স মডেলে রুফটপ সোলার স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি বিনিয়োগের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আরও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

ভোলার গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে পেট্রোনাসের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করে দেশে ফিরেছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পেট্রোনাসের সহযোগিতায় ভোলার গ্যাস নিয়ে কার্যকর কিছু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

শিল্প খাতে গ্যাস সংকটের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও নগদ অর্থপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। সরকারের কারণে কোনো ব্যবসায়ীর নাম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তালিকায় উঠুক—এটি তিনি চান না।

এলএনজি সরবরাহে সাম্প্রতিক সমস্যার কারণে সারা দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানার ওপর এর প্রভাব যাতে কম পড়ে, সরকার সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বর্তমান শিল্প সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিডিং রাউন্ড শুরু হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে অফশোর অনুসন্ধানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

শিল্পে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারের প্রস্তাব নিয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য, প্রস্তাবটি কার্যকর এবং শিল্পের জন্য উপকারী হলে অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ করা হবে না। সরকারের কাছে শিল্প ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই অগ্রাধিকার।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট হলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সক্ষমতা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হলে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই এড়ানো যেত। দেশে উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে।

এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ থাকলেই দ্রুত এলএনজি আমদানি বাড়ানো যায় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দরকার। একটি নতুন এফএসআরইউ চালু করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ মাস সময় লাগতে পারে। তবে সরকার দুই বছরের কম সময়ে এটি কার্যকর করার চেষ্টা করছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউ নিয়েও কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাতারবাড়ীতে ল্যান্ডবেসড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং টার্মিনালের জন্য জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে।

এলপিজি খাতে সরকারের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সরকার বাল্ক এলপিজি আমদানি করে বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল ব্যবহার করে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে চায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ রুফটপ সোলার এবং অবশিষ্ট অংশ ল্যান্ডবেজড প্রকল্প থেকে আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু হয়েছে, যা নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। একই সঙ্গে অনশোর বিডিং রাউন্ড নিয়েও কাজ চলছে।

সেমিনারে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং একতরফা সিদ্ধান্ত বেসরকারি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রেখে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং সব ধরনের জ্বালানি উৎসকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক গড় ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দিতে এফএসআরইউ ও এলএনজি আমদানির বিকল্প নেই। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। কারণ দেশের জ্বালানি সংকটের সঙ্গে ডলার সংকটও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্যানেল আলোচনায় ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান নেই। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্রুত ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা প্রয়োজন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে মৌলিক ও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে বর্তমান সরকারকেও ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।

বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, বেসরকারি জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।