calendar_today বুধবার, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ • ৪ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী ◆ টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন ◆ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন সদস্য সচিবকে সাবেক নেতাদের অভিনন্দন ◆ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প ◆ ইরানে মার্কিন হামলার খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম ◆ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে আশাবাদী ঢাকা: শামা ওবায়েদ ◆ কুমিল্লায় ২৭ মামলার আসামি মইন্যা ডাকাত গ্রেপ্তার, সঙ্গে ছেলে ◆ লালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে একই গ্রামের দুই শিশুর মৃত্যু
home হোম / অর্থনীতি / টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারা অনুযায়ী কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়, কী শর্ত পূরণ করতে হবে এবং কীভাবে আবেদন করবেন, জেনে নিন।

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ • সকাল ১০:১৩
history আপডেট: ১৪ ঘণ্টা আগে
timer ১০ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১ বার পঠিত

আপনার দেওয়া লেখায় কয়েকটি শর্ত সাধারণভাবে বলা হয়েছে। তবে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬২ অনুযায়ী টিআইএন বাতিলের বিষয়টি আরও নির্দিষ্ট। শুধু টিআইএন আর প্রয়োজন না হওয়া, আয় করসীমার নিচে নেমে যাওয়া বা বিদেশে থাকা—এগুলো এককভাবে বাতিলের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে টানা তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় শূন্য থাকার বিষয়টি আইনে উল্লেখ আছে।

২. সম্পাদিত সংবাদ

ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সনদ নেওয়ার পর অনেকেরই একপর্যায়ে সেটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। কিন্তু টিআইএন সক্রিয় থাকায় আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে করদাতা হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারায় এ বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে।


টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আয়কর-সংক্রান্ত কার্যক্রমে শনাক্ত করতে এ নম্বর ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কাজে টিআইএন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও প্রয়োজন হয়।

তবে টিআইএন থাকলেই প্রত্যেককে কর দিতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। আয়, করযোগ্যতা এবং আইনে নির্ধারিত শর্তের ওপর করদাতার দায়িত্ব নির্ভর করে। তাই টিআইএন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কোন পরিস্থিতিতে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়?

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬২ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে করদাতার নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। সেগুলো হলো—

1. করদাতা হিসেবে আর বিবেচিত না হলে: কেউ যদি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী আর করদাতা না থাকেন এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানোর বাধ্যবাধকতাও না থাকে, তাহলে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে পারেন।

2. টানা তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকলে: পরপর তিন বছর করযোগ্য আয় শূন্য থাকার পাশাপাশি শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোনো কারণে ভবিষ্যতেও করযোগ্য আয় শূন্য থাকার পরিস্থিতি থাকলে আবেদন করা যেতে পারে। তবে শুধু আয় কমে যাওয়া বা এক বছর করযোগ্য আয় না থাকলেই এ শর্ত পূরণ হয় না।

3. রিটার্ন দাখিলের আর বাধ্যবাধকতা না থাকলে: আয়কর আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির আর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন না থাকলে এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলে তিনি আবেদন করতে পারেন।

4. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তাঁর নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যায়। এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অবসায়িত বা বিলুপ্ত হলে কিংবা অন্য কোনো কারণে অস্তিত্ব হারালেও নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ রয়েছে।

5. স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করলে এবং দেশে কোনো আয়-উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকলে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করতে পারেন।

6. ভুল বা একাধিক নিবন্ধন থাকলে: একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ভুলবশত একাধিক টিআইএন তৈরি হলে কিংবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন হয়ে থাকলে বাতিলের আবেদন করা যায়।

7. আইনি মর্যাদা পরিবর্তন হলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আইনি মর্যাদা পরিবর্তিত হলে এ কারণেও নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

8. অন্য কোনো আইনানুগ কারণ থাকলে: উপরোক্ত কারণগুলোর বাইরে অন্য কোনো বৈধ ও যুক্তিসংগত কারণ থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।


টিআইএন বাতিলের আবেদনে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে

শুধু আবেদন করলেই টিআইএন বাতিল হবে না। আয়কর কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হতে হবে—

  • করদাতার কোনো বকেয়া কর বা পরিশোধযোগ্য দায় থাকা যাবে না।

  • করদাতার বিরুদ্ধে কোনো কর নির্ধারণ কার্যক্রম চলমান থাকা যাবে না।

  • কোনো আদালত বা ফোরামে আয়কর-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা যাবে না।

  • নিবন্ধন বাতিলের আবেদনে উল্লেখ করা কারণের সত্যতা থাকতে হবে।

অর্থাৎ, এসব শর্ত পূরণ না হলে আবেদন করলেও নিবন্ধন বাতিল নাও হতে পারে।


যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

আয়কর আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন বাতিলের কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমর্থনকারী কাগজপত্র দিতে হবে।

আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বর্তমান আবেদনপদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নথির তালিকা জেনে নেওয়া ভালো। কারণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী কাগজপত্রের ধরন ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণত আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে—

  • টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণ;

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;

  • ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়;

  • করদাতার মৃত্যু হলে মৃত্যু সনদ ও আবেদনকারীর পরিচয় বা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি;

  • স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র;

  • টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাইতে পারেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

টিআইএন বাতিল হলে কী হবে?

আইনের ২৬২ ধারার ৫ উপধারা অনুযায়ী, নিবন্ধন বাতিলের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট টিআইএন নিষ্ক্রিয় বা ব্যবহার অনুপযোগী করা। তবে এর অর্থ এই নয় যে এনবিআরের কাছে সংরক্ষিত করদাতার আগের তথ্য ও নথি মুছে ফেলা হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এসব তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবে এনবিআর।