উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উজিরপুর উপজেলার সানুহার থেকে ধামুরা সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ২ নভেম্বর বিকেল চারটার দিকে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি অফিসে চলে আসেন। পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল দশটার দিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সড়কের মধ্যবর্তী স্থানের ৩/৪টি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান।
সরেজমিন চিত্র ও স্থানীয় তথ্য
সরেজমিনে সানুহার-ধামুরা সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশ খোঁড়াখুঁড়ির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল সরকারি রাস্তার দুইপাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সানুহার থেকে কচুয়া পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিন আগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা সড়কের সরকারি গাছগুলো মার্ক বা চিহ্নিত করে দিয়ে যায়। এর পরপরই গাছ কেটে নেওয়ার এই হিড়িক শুরু হয়।
এ ঘটনায় শোলক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম চাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার জন্য উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীসহ কয়েকজনকে দায়ী করেন।
যদিও দলীয় নেতাদের অনুরোধে পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন বলে বুধবার সন্ধ্যায় স্বীকার করেন। তবে উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতির নেতৃত্বে গাছ কাটার বিষয়টি সত্য বলে তিনি দৃঢ় দাবি করেন। ইতোমধ্যে ওই সড়কের গাছ কেটে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজিরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাঢ়ীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
উজিরপুর বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গাছগুলো সামাজিক বনায়নের নয়। তবে শুনেছি সাবেক এক সংসদ সদস্য স্থানীয়দের নিয়ে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। এরপরও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, রাস্তাটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো কারা লাগিয়েছিলেন তা এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। যেহেতু সরকারি জায়গার গাছ চুরি হয়েছে, তাই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী সুজা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।