হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এ পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। সংঘাতের কারণে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য তেল পরিবহন আবার বাড়তে শুরু করেছে।
এর মধ্যেই সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে তেহরানের সাত দিনের আস্থা তৈরির পরিকল্পনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে তারা। কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন জবাবটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে পৌঁছেছে।
ইরানের প্রস্তাবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের পর ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে মূল মতপার্থক্যগুলোর পাশাপাশি কোন পক্ষ আগে কোন পদক্ষেপ নেবে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় স্বীকার করে অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে একদিকে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক তৎপরতা—দুই ধারাতেই এগোচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত।