calendar_today বুধবার, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ • ৪ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ ◆ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা নামল ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্টের ◆ ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা ◆ রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত, আহত ২ ◆ সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী ◆ টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন ◆ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন সদস্য সচিবকে সাবেক নেতাদের অভিনন্দন
home হোম / রাজনীতি / এক টেবিলে বসা যেতে পারে দাবি মানলে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
রাজনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

এক টেবিলে বসা যেতে পারে দাবি মানলে

সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যকে আমলে নিচ্ছে না রাজপথে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ভাববেন বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে তাঁরা বলেছেন...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩ • বিকাল ০৪:১২
history আপডেট: ৩ বছর আগে
timer ১০ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৭ বার পঠিত

চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে বাজেট নিয়ে দলীয় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের একেক সময় একেক বক্তব্যই তাঁদের চরিত্রকে প্রকাশ করে। বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট দেশের প্রধান জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধ নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য আগে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে হবে। তার পরে সংলাপ হতে পারে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সংলাপ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক পরিষ্কারভাবে বললেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন, নির্বাচনকালীন সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হবে। কিছুক্ষণ পর সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এখন আমির হোসেন আমু সংলাপের কথা বললেন। অথচ তাঁদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরেক কথা বলছেন।

সংকট সমাধান নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্যকে ‘এলোমেলো’ বক্তব্য হিসেবে দেখছেন ড. খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, আসলে তাঁরা ‘এলোমেলো লীগ’ হয়ে গেছেন। আরও ‘এলোমেলো’ হবে, সময় শেষ হলে এমনই হয়। সরকারের সময় শেষ, রাজপথেই সমাধান। তবে আলোচনার সময় শেষ হয়নি, এখনও সময় আছে। তার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিন, নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিন। এর পরে  নির্বাচন কীভাবে হবে– সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলে তার জবাব দেবে বিএনপি। তবে এ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতারা ও সরকারের মন্ত্রীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন– সেটিকে আপাতত আমলে নিচ্ছেন না তাঁরা। তিনি বলেন, কোথায় কোন সমাবেশে কে কী বলছেন– সেটির জবাব দেওয়া তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেউ লিখিত প্রস্তাব দিলে সেটির জবাব দেওয়ার জন্য ভাববেন তাঁরা।

বিএনপি নেতারা  আরও বলেন, সরকার সবদিক থেকে চাপে আছে। বিগত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে আন্তর্জাতিক মহলের এবারের নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার তাগিদ রয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধাদানকারীদের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। অন্যান্য গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্রও বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবেও অর্থনৈতিক সংকট, লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্য নিয়ে চাপে রয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিরোধী দলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে। দেশে-বিদেশে এমন নানা চাপের কারণে এখন সংলাপের কথা বলছে সরকার।
দলের বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে এর আগে যতবারই সংলাপে বসা হয়েছে, ততবারই তারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। জাতীয়ভাবে ও আন্তর্জাতিকভাবে ওইসব সংলাপ কোনো কাজে আসেনি। তাই এবার সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আগে আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানতে হবে। তারপর সংলাপে বসার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে।

বিএনপি নেতারা জানান, নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী। ১৯৯৬ সালে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সবার মতামত উপেক্ষা করে তা বাতিল করে দেয়, যাতে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ওই সময় থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে দেশ-বিদেশের নানা চেষ্টাকেও আমলে নেয়নি তারা। ২০১৩ সালে ওই চেষ্টার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত হিসেবে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো এক বছরে তিন দফা ঢাকায় আসেন। ছয় দিনের সফরকালে তারানকো মোট ২৫টি বৈঠকে অংশ নেন।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ওইসব বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটা সংবিধানের নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। এই নির্বাচন শেষে সবার অংশগ্রহণে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত তাদের ওয়াদা রক্ষা করেনি। একইভাবে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ আয়োজন করেন। সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে যতগুলো দাবি করা হয়েছিল, তার একটিও রক্ষা হয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়নি, বিরোধী দলের নেতাকর্মী এমনকি প্রার্থীরাও হামলা-মামলা থেকে রক্ষা পাননি। প্রার্থীদেরও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ‘দিনের ভোট আগের দিন রাতে’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ দুটি ঘটনাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে আর ভরসায় রাখতে পারছেন না বলে জানান বিএনপি নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য এবারও ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছে ক্ষমতাসীন দল। এরই মধ্যে তাদের আজ্ঞাবাহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার শুরু করেছে। নির্বাচনের এক বছর আগে থেকেই বিরোধী দলকে নির্বাচনী মাঠ থেকে নির্মূল করার মিশন শুরু করেছে বলে অভিযোগ দলটির। এ অবস্থায় আগের মতো সংলাপের মতো নাটকে অংশ নিলে দলের তৃণমূলে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে শঙ্কা তাঁদের। তাই যে সংলাপে সমস্যার সমাধান হয় না, সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না– সেই সংলাপকে অর্থহীন বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

tag ট্যাগ: #1111