যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আঞ্চলিক মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার মধ্যেও চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ইসলামাবাদে এক বার্তায় জানানো হয়, দেশটির প্রধান লক্ষ্য এখন চীন-পাকিস্তান সহযোগিতা প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করা। গত ফেব্রুয়ারিতে বেইজিং সফরের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি।
পাকিস্তানের অগ্রাধিকার আঞ্চলিক মধ্যস্থতার মাঝেও চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদারে
করাচিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোকে দ্রুত দৃশ্যমান ফলাফলে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। মূলত চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর সাথে পাকিস্তানের নিজস্ব উন্নয়ন রূপরেখা ‘ফাইভ ই’ (5Es)-এর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি আধুনিক ও উন্নত অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
পাকিস্তানের এই ‘ফাইভ ই’ উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি নির্ভর প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল পাকিস্তান, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি ও অবকাঠামো এবং সাম্য ও ক্ষমতায়ন। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে জ্বালানি খাতকে অন্যতম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৪২৫ মেগাওয়াটের একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পকে এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা দেশটির বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।