দুই ওপেনারের শতরানের জুটির পর শেষে মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিনের টানা ছক্কার রেকর্ডে বড় সংগ্রহই পেয়েছিল দল। পরে বল হাতে আলো ছড়ালেন মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেনরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশও। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে শুক্রবার তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের ৩৪ রানে হারিয়েছে সফরকারীরা। ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের পুঁজি গড়ে তারা ২ বল বাকি থাকতে জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দেয় ১৫২ রানে। ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রান ও ৩৬ রানে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা সাইফউদ্দিন। জয়ের ম্যাচে একমাত্র অস্বস্তি, চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর আর ফেরেননি নাহিদ রানা। লক্ষ্য তাড়ায় কখনই মনে হয়নি জিম্বাবুয়ে জিতে যাবে। প্রথম ওভারে ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তাদের স্কোর হয়ে যায় ১৫তম ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯। মূলত নবম উইকেটে ব্র্যাড ইভান্স ও রিচার্ড এনগাভারার ৪০ রানের জুটিতে দেড়শ করতে পারে তারা।
দাপুটে জয়ে সিরিজে ফিরল বাংলাদেশ ,জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ সিরিজ
১৪ বলে ২টি করে ছক্কা-চারে ২৫ রান করে ১৯তম ওভারে বাউন্ডারিতে আউট হন ইভান্স। বোলার ছিলেন সাউফউদ্দিন। ১৭ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থেকে যান এনগাভারা।

তার আগে দলের হয়ে ১৯ বলে ২৯ রান করেন রায়ান বার্ল। ১২ বলে ২৮ রান করেন সিকন্দার রাজা।
২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার রিশাদ। ২৪ রানে ৩টি শিকার ধরেছেন মেহেদি।
নিজের বোলিং কোটা শেষ না করেই উঠে যান নাহিদ রানা। ২.৩ ওভারে ১৫ রানে ১টি শিকার ধরেন এই পেসার।
তাসজিন এদিনও ছিলেন উইকেটশূন্য। ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।
এর আগে ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ২১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে ইয়াসির আলির সঙ্গে ১৯ বলে অবিচ্চিন্ন ৪৫ রানের জুটি গড়েন সাইফউদ্দিন।
শেষ ওভারে চার ছক্কায় ২৮ রান তোলেন সাইফউদ্দিন। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টানা চার বলে ছক্কা হাঁকালেন তিনি। ১০ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ১২ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির আলি।
৪৪ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৮ রান করেন তানজিদ। ৪৫ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ রান সাইফের।
দুই ওপেনারের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। তবে একের পর এক জীবন পেয়ে দল গড়ে শতরানের জুটি। সাইফ একাই জীবন পান পাঁচবার! সিকন্দার রাজার বলে তিনি বোল্ড হওয়ার পর ১৩ বলের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের উপর চড়াও হন সাইফউদ্দিন। টানা চারটি ছক্কায় ২৮ রান নিলেন এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চারটি ছক্কা হাঁকালেন সাইফ। ওভারের শেষ বলে তার ক্যাচ ছাড়েন মিল্টন শুম্বা! তিনি একাই ম্যাচে হাতছাড়া করেছেন পাঁচটি সুযোগ। শেষ ৫ ওভারে ৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ।
ঝড় বয়ে গেছে ইভান্সের উপর দিয়ে। ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন তিনি।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে তাই এখন ১-১ সমতা।
একই মাঠে রোববার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৬/৫ (সাইফ হাসান ৫৫, তানজিদ ৫৮, হৃদয় ৬, পারভেজ ১, ইয়াসির ২২*, সোহান ৪, সাইফ উদ্দিন ৩১*; বেনেট ১-০-৯-০, এনগারাভা ৪-০-২৩-২, রাজা ৪-০-২০-১, মুজারাবানি ৪-০-৩৫-০, ইভান্স ৪-০-৬৫-২, বার্ল ২-০-২১-০, শুম্বা ১-০-১০-০)
জিম্বাবুয়ে: ১৯.৪ ওভারে ১৫২ (বেনেট ১১, মারুমানি ৪, মেয়ার্স ৪, শুম্বা ১৯, রাজা ২৮, বার্ল ২৯, মাডান্ডে ১, মুসেকিয়া ১১, ইভান্স ২৫, এনগারাভা ১৫, মুজারাবানি ০; মেহেদি ৪-০-২৩-৪, নাহিদ ২.৩-০-১৫-১, তাসকিন ৪-০-৪৬-০, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩৬-০, রিশাদ ৩.৪-০-২৬-৪, সাইফ হাসান ১.৩-০-৪-১)
ফল: বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা