আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে চলমান টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাট হাতে ভালো শুরু করলেও শেষটা স্বস্তিদায়ক হয়নি। এরপর বল হাতে নেমেও নাজমুল হোসেন শান্তর দল শুরুতে কিছু প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ক্যাচের সুযোগ মিস হওয়ায় শুরুতেই দুবার করে জীবন পান আফগানিস্তানের দুই ওপেনার।
তানজিদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পর ব্যাটিং ধস: ৩৪৬ রানে থামল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস
তবে শুরুর এই ধাক্কা সামলে দ্রুতই ব্রেকথ্রু এনে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। ইনিংসের শুরুতেই সুযোগ নষ্ট হলেও পরবর্তীতে তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সেদিকউল্লাহ অটল। অন্য প্রান্ত থেকে চাপ বজায় রেখে অপর আফগান ব্যাটার শহীদুল্লাহর উইকেট তুলে নেন পেসার ইবাদত হোসেন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ৮০ রান।
ম্যাচের শুরুতেই রিভিউ নিয়ে বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বাংলাদেশকে। হাসান মাহমুদের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলের ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়া বল উইকেটের পেছনে জমা পড়েন লিটন দাস। বাংলাদেশ এলবিডব্লিউ ও কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন জানালেও আম্পায়ারা তা নাকচ করে দেন। অধিনায়ক শান্ত রিভিউ নিলেও রিপ্লেতে আল্ট্রা-এজে কোনো স্পাইক না পাওয়ায় রিভিউটি নষ্ট হয়। পরবর্তীতে অটলের ব্যাটে একই ধরনের স্পর্শ এবং বলের গতিপথে পরিবর্তন দেখা গেলেও এবার আর রিভিউ নেওয়ার ঝুঁকি নেননি শান্ত। তবে টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট স্পাইক ধরা পড়লে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের আরেক ওপেনার আবদুল মালিকও একাধিকবার আউটের মুখ থেকে বেঁচে যান। একবার তাঁর ব্যাটের কানায় লাগা বল গালির দুই ফিল্ডারের মাঝ দিয়ে সীমানার দিকে চলে যায়। এরপর তানজিদ হাসান তামিম একটি ক্যাচ তালুবন্দী করার চেষ্টা করলেও বলটি অল্পের জন্য মাটি স্পর্শ করায় এবারও ভাগ্য সহায় হয় আফগান ব্যাটারের।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রথম দিনে ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে বেশ মজবুত ভিত তৈরি করেছিল শান্ত বাহিনী। তবে এরপরের গল্পটা শুধুই ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার। মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট হারিয়ে মিডল অর্ডারে ধস নামে। ফলে শেষ ৮ উইকেটে দল যোগ করতে পেরেছে মাত্র ১২৫ রান।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় ৮৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি। সেঞ্চুরির চমৎকার সুযোগ থাকলেও ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এছাড়া অন্য ব্যাটারদের মধ্যে সাদমান ইসলাম ৬৭, লিটন দাস ৫৩, মুমিনুল হক ৩৯ এবং অধিনায়ক শান্ত ২৯ রানের উপযোগী অবদান রাখেন।
আফগান বোলারদের মধ্যে সফলতম ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম সাফি, তিনি একাই তুলে নেন ৪টি উইকেট। এছাড়া ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি, ইসমত আলম ২টি এবং কাইস আহমদ ১টি উইকেট দখল করেন।