ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে দরকার ৬০ হাজার কোটি টাকা: গভর্নর

Total Views : 17
Zoom In Zoom Out Read Later Print

দেশের ব্যাংকিং খাতকে ভয়াবহ আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে সামলে তুলতে হলে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর মেয়াদে জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা করে অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) প্রাঙ্গণে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেন জোরদারকরণ সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ব্যাংকিং খাতে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন অনিয়ম ও অর্থপাচারের চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তিনি যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, ততদিনে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুটেরাদের দখলে চলে গিয়েছিল।

আর্থিক খাত থেকে লোপাট হওয়া অর্থের পরিমাণের বিষাদময় বিবরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংক খাত থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে দেশের অন্তত দুই কোটি পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা প্রদান করা যেত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামোগত মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

ব্যাংক খাতের চলমান তারল্য সংকটের জন্য দায়ীদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে গভর্নর বলেন, অপরাধের যে মাত্রা ও ভয়াবহতা তৈরি করা হয়েছে, তা বোঝানোর মতো সাধারণ কোনো শব্দ পর্যাপ্ত নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “লুটেরা গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জিত আমানত লুট করেছে। এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়, এটি ছিল সসংগঠিত লুণ্ঠন।”

তবে সংকট উত্তরণে আশার বাণী শুনিয়ে মোস্তাকুর রহমান জানান, ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের যথোপযুক্ত জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং পাচার হওয়া দেশীয় সম্পদ ফেরত আনতে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ সচল করা হয়েছে।

See More

Latest Photos