calendar_today বুধবার, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ • ৪ নভেম্বর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
‘জেন-জিদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’: মাহমুদুর রহমান ◆ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শাস্তি, উদ্বিগ্ন এইচআরডব্লিউ ◆ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা নামল ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্টের ◆ ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা ◆ রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত, আহত ২ ◆ সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদ বিএনপির ◆ ফরিদপুরে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযুক্তদের নাম ◆ ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সন্দেহের কেন্দ্রে লাজারাস গ্রুপ ◆ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ◆ চিকিৎসা ও সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিএনপি কর্মী ◆ টিন থাকলেই কি রিটার্ন দিতে হবে? বাতিলের নিয়ম জানুন ◆ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন সদস্য সচিবকে সাবেক নেতাদের অভিনন্দন
home হোম / অন্যান্য / কোষের অকাল বার্ধক্য শৈশবের মানসিক ট্রমা ও দারিদ্র্য ডেকে আনছে : গবেষণা
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন

কোষের অকাল বার্ধক্য শৈশবের মানসিক ট্রমা ও দারিদ্র্য ডেকে আনছে : গবেষণা

শৈশবে যারা চরম দারিদ্র্য, অবহেলা কিংবা কোনো বড় ধরনের মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যান, প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে তাদের কোষের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সাময়িকভাবে এই...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ • বিকাল ০৫:২৭
history আপডেট: ৪ মাস আগে
timer ৫ মিনিট পড়ার সময়
visibility ২৩০ বার পঠিত

আমেরিকার বিখ্যাত জার্নাল ‘বায়োলজিক্যাল সাইকিয়াট্রি’-তে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। 

গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবের প্রতিকূলতা মানুষের কোষের শক্তির উৎস বা ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’-র ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যখন এই ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা বড় হয়ে কোনো মানসিক বা শারীরিক চাপের মুখোমুখি হন, তখন তাদের মাইটোকন্ড্রিয়া সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা প্রদর্শন করে এবং দ্রুত শক্তি উৎপাদন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কোষের এই অতি-সক্রিয় অবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘হাইপারমেটাবলিজম’। 

ক্ষণস্থায়ী লাভ, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি 

গবেষকদের মতে, তীব্র সংকটের মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে শরীরকে টিকিয়ে রাখতে বা মানিয়ে নিতে এই বাড়তি শক্তি সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা হলো, শৈশবের ট্রমার কারণে শরীরের এই মেকানিজম স্থায়ী রূপ নেয়। ফলে কোনো চাপ বা বিপদ না থাকলেও কোষগুলো প্রতিনিয়ত এমনভাবে কাজ করতে থাকে যেন তারা এখনো কোনো বড় বিপদের মধ্যে আছে।

যুক্তরাজ্যের ইউসিএলএ-এর মনোবিজ্ঞানী এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক জেনিফার সামনার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাইটোকন্ড্রিয়া যদি বিশ্রামের সময়েও অবিরাম চাপের মধ্যে কাজ করতে থাকে, তবে তা খুব দ্রুত কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে কোষের ভেতরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং একটা সময় পর সামগ্রিক কার্যক্রম একদম কমে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’ 

আঘাত ও বঞ্চনার ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব

গবেষণার প্রথম লেখক শাইলো ক্লিভল্যান্ড জানান, এই প্রথম কোনো গবেষণায় বৈচিত্র্যময় প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের ওপর শৈশবের দুই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব—‘হুমকি’ এবং ‘বঞ্চনা’-কে আলাদা করে কোষের ওপর তাদের প্রভাব দেখা হয়েছে। 

হুমকি (যেমন- সহিংসতা বা মানসিক ট্রমা): এটি কোষের তাৎক্ষণিক শক্তি উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তবে ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন যেকোনো মানসিক বা শারীরিক চাপ মোকাবিলার জন্য কোষকে সবসময় যুদ্ধংদেহী অবস্থায় প্রস্তুত রাখে।

বঞ্চনা (যেমন- অবহেলা বা চরম দারিদ্র্য): এটি কোষের ভেতর অত্যন্ত অদক্ষ ও ত্রুটিপূর্ণ উপায়ে শক্তি উৎপাদন বাড়ায়, যা মূলত কোষের অভ্যন্তরীণ বিকলতার অন্যতম লক্ষণ। 

কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষকদের মতে, শৈশবের দারিদ্র্য ও ট্রমা কীভাবে পরবর্তী জীবনে একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়, তার জীববৈজ্ঞানিক রহস্য উন্মোচনে এই গবেষণা এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

শৈশবের এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলো কোষের স্তরে কীভাবে প্রভাব ফেলছে তা আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হলে, বয়সজনিত জটিল রোগগুলো শরীরে বাসা বাঁধার আগেই উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষকে সুস্থ রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। 

সূত্র: এনডিটিভি