সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

Total Views : 22
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং সব নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা

মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়াই এ উৎসবের মূল তাৎপর্য।

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহালয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা থাকলেও নাগরিক হিসেবে সবার অভিন্ন পরিচয় হবে বাংলাদেশি।

অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সনাতন সম্প্রদায়ের সার্বিক কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন।

পূজামণ্ডপে বরাদ্দ ও ছুটি বৃদ্ধি

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় পর এবার পূজামণ্ডপগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুর্গোৎসব দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধন। সমাজের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তাঁর ভাষায়, এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রয়োজন, যেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’

দেশের মূল শক্তি জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার মানসিকতাই দেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সামগ্রিক জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন কান্তি মজুমদার এবং গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

See More

Latest Photos